তোফায়েল আহমেদ, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহার সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে কোচিং ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের অভ্যন্তরীণ কোচিংয়ে অংশগ্রহণ না করলেও প্রায় সাড়ে চারশো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এমনকি কোচিং ফি পরিশোধ না করলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) আটকে রাখারও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় সাড়ে চারশো শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ কোচিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেয়। এ বিষয়ে গত ২ মার্চ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নাজির উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে কোচিং ফি ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ফরম পূরণের সময় অগ্রিম ১ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাস্তবে কিছু শিক্ষার্থী কোচিংয়ে অংশ নিলেও অধিকাংশই এতে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু কোচিং না করলেও ফরম পূরণ এবং পরে অ্যাডমিট কার্ড বিতরণের সময় তাদের কাছ থেকে পুরো কোচিং ফি আদায় করা হয়। অনেককে জানিয়ে দেওয়া হয়, বকেয়া কোচিং ফি পরিশোধ না করলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, অনেকেই আগে থেকেই বাইরে কোচিং করতেন কিংবা অতিরিক্ত কোচিংয়ের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং ফি আদায় করা হয়েছে, যা তাদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে সাপাহার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নাজির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বার্থে কলেজের উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী কোচিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে, আবার অনেকে অংশগ্রহণ করেনি।” তবে কোচিংয়ে অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি আদায় এবং ফি পরিশোধ না করলে প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।