সর্বশেষ সংবাদ
সাপাহারে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্কতা জাতিসংঘ’র জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা পদ্মা নদী রক্ষায় রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার : এমপি মিলন

বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ

Paris
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
0-4096x1872-0-0-{}-0-24#bokehtype:0#;ts:651292041234000;appts:1783155517364;qlty:1;illum:2 scene:0 humanIn:0;

তানোর থেকে প্রতিনিধি : আষাঢ়ের খরতাপে পুড়ছে রজশাহীর তানোর উপজেলা। আষাঢ় মাসের ২০ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। তেমন বৃষ্টির দেখা মিলছে না। বৃষ্টির পানি না পাওয়ার কারনে রোপা আমনের জমি চাষ করতে পারছেনা কৃষকরা। বৃষ্টির পানির অভাবে রোপা আমন বীজ তলা শুকিয়ে গেছে। এতে করে সময়মত জমি চাষ ও রোপন নিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। আবার প্রচন্ড খরতাপে নাজেহাল অবস্থা জনজীবনে।
কৃষকরা জানান, আষাঢ় মাসের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও বৃষ্টির পানি নেই। তীব্র তাপমাত্রা বিরাজ করছে। সেই সাথে প্রচন্ড গরম। কোথাও স্বস্তি মিলছেনা। মনে হচ্ছে চৈত্র মাসের খরতাপ বিরাজমান। আষাঢ় মাসের কোন চিহ্নি পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসময় বৃষ্টির পানিতে জমি চাষ পুরোদমে চলে। এখন বীজতলা টিকিয়ে রাখায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত হারে সেচের পানিতে বীজতলা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু জমি চাষ নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি আলুর জমির ধান কাটা মাড়ায় শেষ হয়েছে। ফকা পড়ে আছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। আষাঢ়ের শেষের দিকে ও শ্রাবন মাসের শুরু থেকে জমি রোপন শুরু হয়। আলুর জমির ধান বেশির ভাগ মেশিনে কাটা হয়েছে। একারনে ন্যাড়া বড় হয়ে আছে। এসব ন্যাড়া পচাতে কয়েকটি আগাম চাষ দিতে হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে চাষ হচ্ছেনা। জমিতে ন্যাড়া দিনের দিন বড় হচ্ছে। ন্যাড়াতে পচন ধরাতে অতিরিক্ত চাষ দিতে হবে। শনিবারে যে পরিমান খরতাপ ও গরম ছিল তাতে মনে হচ্ছে আষাঢ় মাস না চৈত্র মাস চলছে।
কৃষক মুনসুর জানান, এসময় পুরো জমি চাষ চলে। কিন্তু পানির জন্য জমি চাষ হচ্ছে না। জমি শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানির আসায় যারা শুকনো জমিতে চাষ দিয়েছিল সেসব জমির অবস্থাও বেগতিক হয়ে পড়ে রয়েছে। আবার চাষাবাদে যেন কৃষকের তেমন আগ্রহ নেই। কারন একের পর এক লোকসান হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। সেচের পানিতে জমি চাষ করার মত অবস্থা নেই চাষিদের। কারন একমন দান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯ টাকা থেকে এক হাজার টাকা করে। লাভ তো দূরে থাকা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেনা। আবার আষাঢ়ে চৈত্র মাসের খরতাপ শুরু হয়েছে। এসময় মাঠে জমিতে বৃষ্টির পানি থৈথৈ করে সেখানে পানির জন্য চাতক পাখির মত চেয়ে আছে কৃষকরা। তবে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রাও ছিল আবার মাঝে মাঝে হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও শীতল হাওয়া বিরাজ করছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে প্রচুর খরতাপ শুরু হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী বল্টু, চা দোকানী ইসাহাক, ডলার জানান, তীব্র গরমে দোকানে থাকাই দূরহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে। শরীর দিয়ে শুধু পানি বের হয়ে পড়ছে। ফ্যানের বাতাসে কিছুই হচ্ছে না। বাড়িতে শুয়ে থাকলেও শরীর দিয়ে অনবরত ঘাম বের হচ্ছে। কোথাও স্বস্তি নেই। একটু হাটাহাটি করলেই জামা কাপড় ভিজে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে গোসল করা হয়েছে।
সকাল ১০ টার পর থেকে বিকেল সাড়ে চারটা, পাঁচ টা পর্যন্ত থানা মোড়ে ও রাস্তায় তেমন যানবাহন দেখা পাওয়া যায়নি। দু একটা যানবাহনের দেখা মিলেছে।
অটোভ্যান চালক, সামাদ, তৈয়ব,ওহাবসহ অনেকে জানান, আজ শনিবার ছুটির দিন লোকজন কম থাকে। আবার যে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে একারনে লোকজনের দেখাই মিলছেনা। অতিরিক্ত গরমের কারনে রাস্তায় টিকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বসে থাকতেই জামা কাপড় গরমে ও তাপে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে সব ভিজে যাচ্ছে। কোথাও স্বস্তি মিলছেনা। কৃষকরা আরো জানান, এসময় পানি না পেলে জমি চাষ হবে না। জমি চাষ করতে না পারলে সময় মত রোপন করা যাবেনা। সঠিক সময়ে রোপন না হলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। আবার বীজের সঙ্কটও হতে পারে। সেচ নিয়ে জমি চাষের অবস্থা নেই।
শাকির নামের এক চাষী জানান, এসময় জমি রোপনের জন্য তৈরি হয়ে যায়। যাদের বীজ হয়ে গেছে তারা রোপন শুরু করে। কিন্তু বৃষ্টির পানি না পাওয়ার কারনে জমি চাষ দিতে পারছেনা। অনেকে শুকনে চাষ দিচ্ছে। এবার আলুতে প্রচুর লোকসানের কারনে আলু চাষের জমি লীজ হয়নি। জমি লীজ হলে সেচের পানিতে চাষ রোপন শুরু হত। বোরো ধানে লোকসান, আলুতে লোকসান, আলুর জমির ধানে লোকসান। কৃষকের কপালে যেন লোকসান ছাড়া কিছুই জুটছেনা। এত লোকসান হলে চাষাবাদে আগ্রহ কিভাবে থাকবে। চাষীদের ঘরে ঘরে লোকসানের আর্তনাদ চলছে।
পৌর এলাকার চাপড়া, ধানতৈড়, গুবিরপাড়া, সিন্দুকাই, তানোরপাড়া, আমশো, কাশিমবাজার, কালিগঠলঞ্জ, গোকুল, তলন্দ, উপজেলার কামারগা ইউপির হাতিশাইল, ছাঐড়, বাতসপুর, মাদারিপুর, ধানোরা, কলমা, দেউল কান্না, নারায়নপুর, ইলামদহী, চাদপুর, মুন্ডুমলা, চিনাশো, চিমনা, দুবইল, বাঁধাইড়, নায়ারনপুর, বহরইল, গাল্লা, বৈদ্যপুর, সরনজাই, সরকারপাড়া, মন্ডলপাড়া, কাসারদিঘি, শুকদেবপুর, মোহর, লালপুর, দেবিপুর, বিলশহর, আড়াদিঘি, পাচন্দর, কৃঞ্চপুর, কুন্দাইন, মোহাম্মদপুর, উচাডাংগা, কলমা, বিল্লিসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় জমি ফাকা পড়ে আছে। মাঝে মাঝে বীজতলায় বীজ প্রস্তুত। শুধু বৃষ্টির পানি পাওয়া মাত্রই পুরোদমে চাষ শুরু হবে বলে মনে করছেন। আবহাওয়ার ওয়েব সাইডে দেখা যায়, শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। আসা করছি লক্ষমাত্র অর্জন হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris