রবিবার

১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্বশুড়বাড়িতে স্ত্রীকে খুন!

Paris
Update : রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

এফএনএস : গাজীপুরের কাপাসিয়ার সিংহশ্রী বড়বেড় গ্রামের মাসুদ মিয়া পেশায় কাঠশ্রমিক। তার চার মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় মারুফা আক্তার। এলাকায় পড়াশুনার সুযোগ কম থাকায় মারুফাকে ছোটকালেই শ্রীপুর উপজেলার বরমী বরনল গ্রামের নানা কাশেম মিয়ার কাছে দিয়ে দেন তিনি। নানার দেখভালে স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভালোভাবেই পড়া চালিয়ে যাচ্ছিল মারুফা। করোনার সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে প্রতিবেশী এমদাদুল হকের ছেলে ইমনের (২০) সঙ্গে প্রেমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। চলতি বছরের মার্চে ইমনের বিভিন্ন প্রলোভনে পরিবারের অমতে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যায় সে। আটমাস সংসারের পর নির্যাতন শুরু হয় মারুফার ওপর।

একপর্যায়ে শাশুড়ি টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মারুফাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রায় মাসখানেক আগে তার আশ্রয় হয় বাবার বাড়িতে। সেখান থেকেই শ্রীপুর বরমী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নেয়। অল্প কয়েকদিনেই তার ভুল বুঝতে পারে সে। বাবা-মাকে জানায় সে আর সংসার করবে না। পড়াশুনা চালিয়ে যাবে। গত শুক্রবার দুপুরে স্বামী ইমন মিয়া মারুফাদের বাড়িতে বেড়াতে যান। সবাই ভালোভাবে গ্রহণ করেন তাকে। এ সময় তিনি জানান মারুফাকে তার সঙ্গে নিতে এসেছেন। কিন্তু মারুফা যেতে অস্বীকৃতি জানায়। নানাভাবে বুঝানোর একপর্যায়ে সে পরদিন (গতকাল শনিবার) স্বামীর সঙ্গে যেতে রাজি হয়।

স্বামী সেদিন শ্বশুরবাড়িতেই থেকে যান। রাতে তারা একসঙ্গে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার দিকে মেয়ের জামাইয়ের ফোন দেখে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন মাসুদ। অপরপ্রান্ত থেকে তার মেয়ের জামাই জানান মারুফাকে খুন করে তিনি চলে এসেছে। পরে বাড়ির একটি কক্ষে গিয়ে তারা মারুফার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে গতকাল শনিবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শ্রীপুরের বরনল গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে। নিহত মারুফার বাবা মাসুদ মিয়া বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভালো পড়াশুনার জন্য মেয়েকে নানাবাড়ি পাঠিয়েছিলাম। সে পড়াশুনায় ভালো ছিল।

হঠাৎ না বুঝেই সে প্রেমে জড়িয়ে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। আমরা এমন বিয়ে মেনে নেইনি। কয়েকমাস পর থেকেই মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে তাকে বাড়ি ছাড়া করা হয়। পরে মেয়েকে আমরা ঘরে ফিরিয়ে আনি। এটুকু বয়সেই মেয়েকে গত কয়েকমাস ধরেই মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এতসব কাটিয়ে সে আবারও একটি স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিল। সে সুযোগটিও দিলো না তার স্বামী। তিনি আরও বলেন, জামাই বাড়িতে আসায় সবাই তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছি। আমরা খুব যত্ন করেছি।

মেয়েও তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু জামাই মেয়েকে এভাবে হত্যা করে চলে যাবে আমরা আন্দাজও করতে পারেনি। কাপাসিয়া থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে শ্রীপুর থেকে অভিযুক্তকে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris