রবিবার

১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ নারীকে ২ ডোজ করে টিকা প্রদান!

Paris
Update : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

এফএনএস : সারাদেশে শুরু হয়েছে গণটিকাদান কর্মসূচি। গতকাল শনিবার এ কর্মসূচির প্রথম দিনেই তিন জেলার তিন নারীকে পরপর দুটি ডোজ টিকা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে খুলনায় জহুরা বেগম (৭৩) নামে এক বৃদ্ধাকে দু’বার করোনা টিকা দেওয়া অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাফিজুর রহমান ঈদগাহ ময়দান টিকাদান কেন্দ্রে তাকে দু’বার টিকা দেওয়া হয়। জহুরা মহানগরের সোনাডাঙ্গা ময়লাপোতা কেসিসি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও মরহুম মুনসুর খাঁর স্ত্রী।

তার ছেলে রফিক খাঁ খুলনা সিটি করপোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখার গার্বেজ ট্রাকচালক। জহুরা বলেন, আমি টিকা নিতে গেলে প্রথমে সোবহানের বউ (টিকাদানকারী) আমার বাম হাতে টিকা দেয়। চলে আসার সময় আমার পরিচিত রুবেল নামে এক যুবক ডাক দিয়ে চেয়ারে বসায়। এরপর আরেকজন টিকাদানকারী আমাকে আবার টিকা পুশ করে। আমি জানতাম না একদিনে টিকা দু’টি দেয় নাকি একটি। তিনি বলেন, টিকাদান কক্ষ থেকে বেরিয়ে দু’বার টিকা দেওয়ার বিষয়টি সোবহান, কালাম মোল্লা ও মসজিদের হুজুরকে জানাই। হুজুর শামীম নামে একজনকে ফোন করে জানায়।

হুজুর আমাকে বলে কাউকে বলবেন না, আমরা সব ঠিক করে দিবানি। জহুরা বলেন, এখন আমার মাথা ঘোরাচ্ছে, বুক কাপছে। রফিক খাঁ জানান, তার মাকে দু’বার টিকা দেওয়া হয়েছে। এখন তার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এদিকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় রোজিনা বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে করোনা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে টিকাদানের সময় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। রোজিনা বেগম ওই উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের মো. মুসলিম খানের স্ত্রী। রোজিনা বেগমের স্বামী মুসলিম খান জানান, দুপুরে কেন্দ্রে টিকা নিতে যান রোজিনা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকা নেন তিনি। এরপর টিকাকার্ডের জন্য রোজিনা কেন্দ্রেই অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর টিকাদানকর্মী আফরিন সুলতানা এসে আবারও রোজিনাকে টিকা দেন।

দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত রোজিনার শারীরিক কোনো সমস্যা হয়নি। তবে পরে কোনো সমস্যা হয় কিনা সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। দুই ডোজের টিকা দেওয়ার খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়া। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রোজিনা প্রথমে একবার টিকা নিয়ে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর আবার কেন্দ্রে এসে বলেন তিনি টিকা কার্ড ফেলে গেছেন। তখন টিকাদানকর্মী আফরিন জিজ্ঞেস করলে বলেন তিনি টিকা নেননি। সেজন্য ওই রোজিনাকে টিকা দেন। টিকা নেওয়ার পর ওই তিনি চলে যান। তিনি নিজের উৎসাহ থেকে এ কাজ করেছেন। তবে দুই ডোজ নিলেও ওই গৃহবধূর কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান ডা. নোমান।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris