আরিফ সাদাত, পুঠিয়া : এলাকায় তিনি এখন মধু ভাই। আবার অনেকেই ডাকেন হানি বলে। কিন্তু তার নাম আব্দুল আলীম। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের বালাদিয়াড় গ্রামের রুপচান আলীর ছেলে এই আব্দুল আলীম। মৌমাছির কাব্যিক ছন্দের সাথে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই মৌ মধু সংগ্রহ করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। ১৪ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করে আব্দুল আলীম এলাকায় বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়াই একজন মধু চাষীর পরামর্শ নিয়ে ২০০৭ সালে মাত্র ৪টি মধুর বাক্স নিয়ে শুরু হয় মধু আলীমের পথচলা।
এখন তার খামারে দেড় শতাধিক মধুর বাক্স রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির মূল্য ৭/৮ হাজার টাকা। বছরে ৭/৮ টন করে মধু উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি প্রাণ কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে মধু সরবারহ করেন তিনি। আলীম বলেন, ‘শখের বসেই ২০০৭ সালে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে মাত্র ৪টি মধুর বাক্স কিনে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু করি। পরে চাকরির আশা না করে মধুর বাণিজ্যিক চাষ করে আসছি’। ‘বর্তমানে আমার মধু খামারে ৫ জন মৌয়াল সারা বছর কাজ করেন। ২০১৫ সালের পর ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯ টন মধু উৎপাদন করেছি।
চলতি বছর দ্বিগুণ পরিমাণ মধু উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন দেশের বিভিন্ন খামার থেকেও মধু সংগ্রহ করে থাকি। কুষ্টিয়ার মিরপুর ও নাটোরের চলনবিল থেকে সরিষা ও কালোজিরা ফুলের মধু সংগ্রহ করি। এছাড়া দিনাজপুর থেকে লিচু ফুল ও ঠাকুরগাঁ থেকে মিষ্টি কুমড়ো ফুলের মধু সংগ্রহ করি। আলীম জানান গত বছর খামার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও কয়েকটি কোম্পানির কাছে ৩০০ টাকা কেজি দরে মধু বিক্রি করেছি। বেশির ভাগ কোম্পানি আমার খামার থেকে মধু ক্রয়ের পর কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করে।
এতে মধুর গুনাগুন ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়। তারা দামও বেশি নেন। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হন। আমরা খামারে যান্ত্রিক বাতাসের সাহায্যে মধু সংগ্রহ করি তাতে মধুর পুষ্টিগুন ঠিক থাকে। চারঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লুৎফন নাহার বলেন মৌ খামারি আব্দুল আলীম মধু চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক উৎসাহ বোধ করছেন। আমরা তাকে যাবতীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।