১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন-আদালত, রাজশাহী
রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের নিকট হতে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ গ্রামের আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজশাহী নগরীর সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬), যিনি ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরজন মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। তিনি বর্তমানে কাদিরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি ডিবির। মিলন মতিহার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক। গত দুইটি ঈদ উপলক্ষে তিনি ৩০ নং ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে দলীয় পরিচয় দিয়ে ঈদ শুছেচ্ছার পোস্টার সাঁটান। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা প্রায় ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড করার পর সেন্টার থেকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। তিনি টাকাগুলো লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে লরিটি বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত লরির গতিরোধ করে। তারা লরির জানালার কাচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ভেতরে থাকা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিবি) তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন