বুধবার

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

ধান কাটতে আসছে না শ্রমিক, বেকায়দায় বিলপাড়ের কৃষকরা

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
oplus_131072

আব্দুস সবুর, তানোর : জ্বালানি সংকটের কারনে কমেছে ধানের দাম, যার কারনে বহিরাগত শ্রমিকরা আসছেনা ধান কাটতে। রাজশাহীর তানোরে বিল পাড়ে পাকা ধান জমিতে ভরপুর। শ্রমিক সংকটে সেই ধান কাটতে পারছেনা বিলপাড়ের কৃষকরা। এতে করে কৃষকের রক্ত ঘামের সোনালী ফসল যেন গলার কাটা হয়ে পড়েছে। আবার গত সপ্তাহে ঝড় বৃষ্টির কারনে বিলের নিচু জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলছে বৈশাখ মাস, বিরাজ করছে তীব্র তাপ প্রবাহ, সাথে রয়েছে ভ্যাবসা গরম। ফলে শ্রমিকের জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। কৃষকরা জানান, বিলের জমির ধান পেকে গেছে। ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ধানের দাম নাই। একমন ধান বেঁচে একজন শ্রমিকের খরচ উঠছেনা। ধান কাটার মুল ভরসা বহিরাগত শ্রমিকরা। কিন্তু দাম না থাকার কারনে শ্রমিকরা এখনো আসেনি বা আসতে চাচ্ছে না। আবার ধান কাটার পর ট্রলিতে করে রাস্তায় আনা হয়। কিন্তু জালানি সংকটের কারনে ট্রলিও নেই। পাকা ধান নিয়ে মহা যন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে। যেন ধানের আবাদ অভিশপ্ত হয়ে পড়েছে।
কৃষক শাকির জানান, কয়েকদিন ধরে ধান কাটা শ্রমিক খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের দাম না থাকার কারনে শ্রমিকরা ধান কাটতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। শ্রমিকরা ধান কাটলেও বহন করতে চায়না। গাড়ী করে বহন করা হয়। কিন্তু তেল না পাওয়ার কারনে গাড়ি বন্ধ। বৈশাখ মাস। যে কোন সময় ঝড় বৃষ্টি হলে পাকা ধানের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়বে।
সাহেব নামের আরেক চাষী জানান, বিগত বছরগুলোতে ধান কাটার আগেই শ্রমিকরা জমি দেখে যেত, কখন কাটা হবে, এজন্য কখন আসতে হবে। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোটাই উল্টো। ধান পেকে গেছে কাটার সঠিক সময়। কিন্তু শ্রমিক মিলছেনা। আবার তীব্র তাপমাত্রা শুরু হয়েছে। বিলের নিচু জমির প্রায় ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়লে কাটতে চাইনা শ্রমিকরা। কাটলেও দ্বিগুণ খরচ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির, দমদমা, গাগরন্দ, হাড়দহ, জুড়ানপুর, তানোর পৌর এলাকার কৃষকের বেশির ভাগ বোরো জমি বিলে রয়েছে। কালীগঞ্জ, মাসিন্দা, হাবিবনগর, বুরুজ, ভদ্রখন্ড, কাশিম বাজার, জিওল, চাদপুর, আমশো, মথুরাপুর, সরকারপাড়া,তাতিয়ালপাড়া, গোল্লাপাড়া, হলদারপাড়া, তানোর পাড়া, কুঠিপাড়া, হিন্দুপাড়া, গুবিরপাড়া, সিন্দুকাই, ধানতৈড়, চাপড়া, গোকুল, মথরাপুর, তালন্দ কলেজ পাড়া, বেলপুকুরিয়া, বাহাড়িয়া, সুমাসপুর, হরিদেবপুর, লবিয়তলা ব্রীজের পশ্চিমে, উত্তরে, পূর্বে, দক্ষিণে, কামারগাঁ ইউপির, হাতিশাইল, বারোঘরিয়া, হাতিনান্দা, কামারগা, কচুয়া, দমদমা, মজুমদারপাড়া, শ্রীখণ্ডা,কৃষ্ণপুর, বাতাসপুর, পারিশো, দূর্গাপুর, মাড়িয়া, মাদারিপুর, ভবানিপুর, জমসেদপুর, বিহারইল, মালশিরা, ধানোরা, চককাজিজিয়া, মালশিরা, কলমা ইউপির কুজিশহর, চন্দবকোঠা। মুলত এসব গ্রামের নিচে বিলকুমারী বিলের জমির অবস্থান। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। বিলের উচু এলাকার জমির ধান খাড়া হয়ে আছে। নিচু এলাকার প্রায় জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। তালন্দ এলাকার কৃষক আমিনুল, আরশাদ, সহ অনেকে জানান, ধানের চাষাবাদ করা যাবেনা। সারের সংকট, জালানির সংকট, দামে ধস, শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যাচ্ছে না। একমন ধানের দাম ৮০০/৯০০ টাকা। অথচ সারা দিন একজন শ্রমিকের মূল্য দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা করে। আবার পাকা ধানে ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে পাতাপোড়া বা বিএলবি রোগ। এরোগের কারনে ধান চিটা হয়ে পড়ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না।
শাকিল, মিলন, এন্তাজ, নাদিম নামের কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। বহিরাগত শ্রমিকরা না আসলে ধান কাটা কষ্টকর ব্যাপার। বিগত বছরে গুলোতে চাপাইনবয়াবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসত। কিন্তু তেল সংকটের কারনে তারা আসতে পারছেনা। কারন তারা নিজস্ব ট্রলি বা বহনের গাড়ি নিয়ে আসে। গাড়ীতে তেল না পাওয়ার কারনে আসছেনা। স্থানীয় শ্রমিক খুবই কম। যারা ধান কাটে তারা মুজুরি হিসেবে। সকাল ৭ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ধান কাটে। এজন্য ৫০০ টাকা করে মুজুরি দিতে হয়। আর চুক্তি হিসেবে বিঘায় ৫ মন করে ধান দিতে হচ্ছে। তাও শ্রমিক মিলছেনা। বিঘা প্রতি কাটা মাড়ায় ৭ হাজার টাকা করে খরচ হবে। সেই হিসেবে রোপন থেকে কাটা মাড়ায় পর্যন্ত বিঘায় ২৩ হাজার টাকা করে খরচ হবে। বিঘায় যদি ২৫ মন ধান হয় তাহলে বর্তমান বাজার মূল্য একমন ৮০০ টাকা। সেই হিসেবে ২৫ মন ধানের দাম আসে ২০ হাজারধানের দামে ধস কাটতে আসছে না শ্রমিক বেকায়দায় বিলপাড়ের কৃষকরা টাকা। বিঘায় লোকসান ৩/৪ হাজার টাকা করে গুনতে হচ্ছে।
শাকির আরো জানায়, মাটিতে পড়ে থাকা ধান কাটতে বিঘায় শ্রমিক লাগবে ৬ জন করে। খাড়া এক বিঘা জমির ধান কাটতে লাগবে ৪ জন করে। পড়ে থাকা ধান ভূত মেশিনে মাড়ায় করতে বিঘায় ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে লাগছে। বিগতধানের দামে ধস কাটতে আসছে না শ্রমিক বেকায়দায় বিলপাড়ের কৃষকরা সময়ে ৫/৬ শত টাকা করে লাগত। জালানি সংকটের কারনে বেড়েছে খরচ।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, উপজেলার চান্দুড়িয়া থেকে কামারগাঁ ইউপির চৌবাড়িয়া মালশিরা পর্যন্ত বিলের জমি। এসব জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বিলের জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। এবারে উপজেলায় বোরো চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। তিনি আরো জানান, যে ভাবেই হোক দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটতে হবে। কারন বৈশাখ মাস। কোন সময় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris