স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী নগরীতে ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়েন এক পুলিশ সদস্য। এর পর ফিল্মি কায়দায় চালানো হয় তার উপর নির্যাতন। এটিএম কার্ডের পিন নম্বর দেয়ার পরও ওই পুলিশ সদস্যের শরীরে দেওয়া হয় সিগারেটের ছ্যাকা! এর পর উল্টো চোর বলে ওই পুলিশ সদস্যকে তুলে দেয়া হয় জনগণের হাতে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৬.৪.২৩) রাতে। বিষয়টি জানার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে আরএমপি জুড়ে। লড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। অবশেষে গত রবিবার (০৯.৪.২৩) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে মতিহার থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম বাজার এলাকার মৃত সুরে জামালের ছেলে, সাগর ইসলাম অরফে ইমন (২৯), মতিহার থানাধীন সোরাফানের মোড় আমবাগান এলাকার সামাদ মন্ডলের ছেলে, রকি (৩৫), বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল দোসর মন্ডল এলাকার সোহেল (৪০) ও পলাশ কবির (২৫)।
মতিহার থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ সদস্য জয়ন্তু কুমার (২৯৬০) রাজশাহী পুলিশ লাইনসে দাঙ্গা দমন বিভাগে কর্মরত। তিনি গত বৃহস্পতিবার (৬এপ্রিল) নগরীর রাজপাড়া থানাধীন রেঞ্জ ডিআইডি অফিসের সামনে থেকে বাজারে আসার জন্য একটি অটোরিকশায় ওঠেন। ওই সময় মুখে মাস্ক পরিহিত দুইজন যুবক অটোতে ছিলেন। মিনিটের মধ্যে মাস্ক পরিহিত দুইজন যুবকের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যের মুখে রুমাল ধরলে তিনি তাৎক্ষনিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি একটি বাসার মেঝেতে পড়ে আছেন। পাশে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে বলে যা আছে বের করে দে। ভয়ে তিনি তার কাছের নগদ ৩ হাজার ৫০০টাকা দিয়ে দেন। তবে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ২টি রূপার আংটি ও ১টি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে এবং আরও টাকা দাবি করে। এসময় পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকা ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেয় এবং পিন নম্বর চায়। নম্বর না দেওয়ায় তাকে ব্যাপক মারধর করে। নিরুপায় হয়ে তিনি তার কার্ডের পিন নম্বর বলে দেন। পিন নম্বর পেয়ে উদয়, পলাশ ও রকি মিলে মতিহার থানাধীন তালাইমারী ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ঢুকে কার্ড থেকে ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে।
এর পর ছিনতাইকারীরা সিগারেটের আগুন দিয়ে হাতে ও পায়ে ছ্যাকা দেয় ঐ পুলিশ সদস্যকে। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য ওই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে মতিহার থানাধীন রেডিও (বেতার) সেন্টারের মাঠে বাগানের ভেতর অজ্ঞানবস্থায় ফেলে দেয়। একসময় ঐ পুলিশ সদস্যের জ্ঞান ফিরলে তিনি উঠে দাড়ালে তাকে অভিযুক্ত পলাশ, উদয় ও রুমেল তাকে মারধর করতে থাকে। ওই সময় আশেপাশে বসবাসরত ও মোটরশ্রমিকের কাজে জড়িত লোকজন এগিয়ে আসলে পুলিশ সদস্যকে উল্টো ফাঁসানোর জন্য ছিনতাইকারিরা অটোচোর বলে চিৎকার করে। এ সময় জনতা পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য ৯৯৯-এ ফোন দিলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
বিষয়টি জানতে পেরে মতিহার থানা পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওসি আরও বলেন, আসামীরা সংঘবদ্ধ চোর ও ভয়ংকর ছিনতাইকারী চক্র। পুরো রাজশাহীজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এদের গডফাদার পাওয়ার হাউজপাড়ার জাহেদালির ছেলে রুমেল। তারা সকলেই মাদক সেবন করে। মাদক সেবনের টাকার জন্য অপহরণ, চুরি, ছিনতাই এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করে না। পলাতক ও প্রধান আসামী রুমেলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।