স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা বিলে ধানি ও তিন ফসলি জমিতে ১২টি পুকুর খনন চলছে। রামরামা কয়েকজন প্রভাবশালী আবাদি জমিগুলোতে অবৈধভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছেন। এতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে। এখানে এস্কেভেটর ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা দ্বীগুন হয়েছে এবং সকাল ৮টার পর থেকে চালু করা হয় ২০টি ড্রেজার মেশিন চলে ভোর রাত পর্যন্ত। কয়েক ঘন্টা বন্ধ রেখে আবারো শুরু করা হয় অবৈধ পুকুর খননের কাজ। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়বে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি এবং পাড়া-মহল্লার বাড়ি-ঘরে ডুকে পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসি জানান, রামরামা গ্রামের মৃত রহম আলীর ছেলে দুলাল ও কাউছার, মৃত নিরজন বৈরাগীর পত্র নির্মল বৈরাগী, মৃত ভুষি মন্ডলের ছেলে দুলু মন্ডল, মসফিকুর প্রামানিকের ছেলে মস্তাক প্রামানিক, মৃত দুলাল ফৌজদারের ছেলে আনোয়ার ফৌজদার, আজাদ, জিল্লু, এবাদুল, লতিফসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছেন। তবে অনেক কৃষক প্রভাবশালী অবৈধ পুকুর খননকারীদের নাম বলতে ভয় পেতে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে ড্রেজারের ড্রাইভাররা বলেন, আমাদেরকে পুকুর খননকারীরা ঘন্টা প্রতি মাটি খননের জন্য ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। তাই আমরা রাত দিন চব্বিশ ঘন্ট মাটি খনন করি।এবং ড্রেজার গুলো এখনো চলছে তাহলে আমাদের কি অপরাধ আমরাতো ভাড়াায় কাজ করি। রামরামা গ্রামের ইফসুব, জলিল, সালাম, রহিম বলেন এভাবে অবৈধ পুকুর খনন চলতে থাকলে আমাদের এলাকার কৃষকেরা ও গবাদী পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দেবে। গোয়ালকান্দি ইউপি সদস্য আবেদ আলী মোল্লা বলেন, প্রসাশনকে ম্যানেজ করে চলছে বাগমারার গোয়ালকান্দি যশের বিলের রামরামা ও সাজুড়িয়ায় অবৈধ পুকুর খনন।
এই তিন ফসলি জমি অবৈধভাবে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে তিনি রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারি (ভুমি) কমিশনার বরাবর দরখাস্ত করেছি তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্ষাকালে এই বিলের চারিদিকে প্রায় ৩ থেকে ৪শ মৎস্যজীবী মাছ শিকার এবং বিলের পানি নেমে গেলে সেই কৃষি জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ব্যবসার নামে ফসলি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়মবর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
গোয়ালকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সরকার বলেন, ভাই পুকুর খননকারীরা আমার সাথে কনো যোগাযোগ করেনি। শুনেছি পুকুর খননকারীরা এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের সাথে টাকার বিনিময়ে যোগসাজ করে প্রকাশ্যে পুকুর খনন রাত দিন করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাগমারা সহকারি (ভুমি) কমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ বলেন, আমি একটি প্রোগ্রামে আছি।