এফএনএস : সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল তুলে ধরে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে এ-সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। এর আগে সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে থাকা ভাষণের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সব অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর সঠিক ভাষণ অন্তর্ভুক্তিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১০ মার্চ বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এসব আদেশ দেন। পরে ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভুলভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, ওই কমিটির সাত সদস্যের মধ্যে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যিক ড. মুনতাসীর উদ্দিন খান মামুন এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক উপ-মহাপরিচালক আশফাকুর রহমান খানকে।
আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালককে। প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস এ রিট দায়ের করেন। রাজবাড়ীর রায়নগর গ্রামের কাশেদ আলীর পক্ষে তিনি এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভুলটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। পাশাপাশি সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্তি চাওয়া হয়। রিটে আইন মন্ত্রণালয় সচিব এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ চার জনকে বিবাদী করা হয়।