এফএনএস : নতুন টাকার লোভে ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া (২৫) নামে যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আটক দুই আসামি। গতকাল সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাড়িতে নিজ বসত ঘর থেকে ফরিদ উদ্দিনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া হত্যার ঘটনায় তার বোন জামাই দুলাল চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আটক আসামিরা ঘটনা স্বীকার করে জানান, মৃত ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া ও আসামি সালাউদ্দিন ভূঁইয়া একই সঙ্গে চলাফেরা করতেন। সালাউদ্দিন সন্দেহ করতেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার আগের রাতে ফরিদ উদ্দিন ও সালাউদ্দিন বাড়ির পাশের দোকানে আইপিএল খেলা দেখছিলেন। এ সময় ফরিদ উদ্দিনের মানিব্যাগে ১ হাজার টাকার ১০টি নতুন নোট দেখতে পান সালাউদ্দিন। এ সময় তিনি ওই টাকার লোভে পড়ে যান। এই নতুন টাকা এবং শত্রুতার জেরে পার্শ্ববর্তী আবদুর রহমানকে নিয়ে ফরিদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সালাউদ্দিন।
ঘটনার রাতে তারা ফরিদের ঘরে প্রবেশ করে ধারালো দা নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকেন। ফরিদ উদ্দিন দরজা খুলতেই তারা ফরিদের ঘাড়ে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন। ফরিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা লাশ গুম করার জন্য তার শয়ন কক্ষে তোশকের ভেতরে পেঁচিয়ে রাখেন। এরপর আসামিরা ফরিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ১০ হাজার টাকার নতুন নোট নিয়ে চলে যায়। বাইরে এসে সালাউদ্দিন তার সহযোগী আবদুর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকায় চলে যেতে বলেন।
মামলা দায়ের হওয়ার পর প্রথমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি আবদুর রহমানকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহমান ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং মূল আসামি সালাউদ্দিনের নাম ঠিকানা বলে দেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী মূল আসামি মো. সালাউদ্দিনকে ফরিদগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।