নওগাঁ প্রতিনিধি : উদ্বৃত্ত ধান-চাল উৎপাদনের জেলা এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম নওগাঁয় পাইকারী ও খুচরা বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদের। প্রশাসনের প্রতি বাজার তদারকীর জোর দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল। এদিকে নবাগত জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে শহরের পাইকারি চালের আড়ত আলুপট্রি বাজার ও গোস্তোহাটির মোড়ে খুচরা চাল বাজার পরির্দশন করেন।
নওগাঁর বাজারে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে চিকন চাল পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি ১ থেকে ২ টাকা এবং খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মোট চালের বাজার অপরিবর্তীত রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ আগে খুরচা বাজারে জিরাশাইল চাল মানভেদে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি ছিলো এখন ৬০ হতে ৬২ টাকা কেজি, কাটারীভোগ-সম্পাকাটারী ৬৪ হতে ৬৭ টাকা কেজি ছিলো এখন ৬৫ হতে ৬৮ টাকা কেজি আর নাজিরশাল ছিল ৬৪ হতে ৬৬ টাকা কেজি যা বর্তমানে ৬৫ হতে ৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি ১ হতে ২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুরচা বাজারে এই প্রভাব পরেছে।
ধান-চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের আমদানী কম, ধানের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারনে পাইকারী ও খুচরা বাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে।নওগাঁর বাজারে সাধারনত খুচরা ক্রেতারা সকলেই শ্রমিক শ্রেনীর নিম্নবিত্তের মানুষ চালের এই মুল্য বৃদ্ধি বিপর্যস্থ করে তুলেছে তাদের জীবন। খুরচা বাজারে চালের ক্রেতা নেই বললেই চলে।
নওগাঁ শহরের পৌর খুচরা চাল বাজারে চাল কিনতে আসা শহরের খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা আকবর আলী বলেন পনের দিন আগে সম্পাকাটারী চাল ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনেছি। সেই চাল এখন ৬৮ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে।
আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের বেশি দামে চাল কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। শহরের চকবায়িয়া মহল্লার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি চঞ্চল হোসেন বলেন, চালের দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে চাল বেশি দামে কিনে খাওয়া সম্ভব না। চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিলে আমরা বাঁচতাম।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাউল বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, আমরা প্রতিদিন চাল কিনি এবং প্রতিদিনই বিক্রি করি। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের বেচাকেনাও কমে গেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে ধারাবাহিক ভাবে পাইকারী বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুরচা বাজারে কেজি প্রতি ২ হতে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীর রাখতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে।
যেখানে অবৈধ ভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে সেখানে জরিমানা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মিলে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে নওগাঁয় চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব আড়তদার রয়েছে তারা আমাদের কাছে ওয়াদা করেছেন প্রতিনিয়ত মজুদ পরিস্থিতি রিপোর্ট প্রেরন করবেন। এবং যারা গ্রিন ব্যাবসা করেন তারা যেন লাইসেন্স করেন এবং এর আওতাভুক্ত হয় সেই বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ গ্রহন করেছি।