মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহী জেলার পিবিআই কর্মকর্তা মতিউর রহমান, বিপি নং-৭৮৯৭০১৮০৫৯, এর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগের পূনঃতদন্ত শুরু করেছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। জানা যায়, অভিযোগকারী রাজশাহীর বাগমারা প্রেসক্লাব সভাপতি আলতাফ হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ০৮/০২/২০২১ ইং তারিখে জনৈক ব্যক্তির ভিডিও স্বাক্ষাৎকারে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করে। পরের দিন প্রেসক্লাবের সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে ০৯/০২/২০২১ ইং তারিখে ফেসবুকে ভিডিও প্রচারকারী ও স্বাক্ষাৎকার দানকারীর পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে বাগমারা থানায় একটি লিখিত জিডি করা হয়। জিডি নং-৬৬৩।
বর্তমানে অভিযোগটির আদালতের নির্দেশক্রমে বাগমারা থানায় তদন্তাদীন রয়েছে। এছাড়াও ভিডিও প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘোষনা করা হয়। এ ঘোষনাটি সভাপতির ফেসবুক আইডি থেকে করা হয়েছে। ঘোষনার দুইদিন পর এক ব্যক্তি ঐ ভিডিও প্রদানকারীর নাম পরিচয় নিশ্চিত করে বাগমারা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, বাগমারা থানাকে মিথ্যা ভিডিও প্রচারকারীর নাম পরিচয় জানানো হয়।
নাম পরিচয় জানার পর বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ হাট গাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে মিথ্যা ভিডিও প্রদানকারীকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য থানায় হাজির করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন কিন্তু হাট গাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম স্থানীয় দুইজন ব্যক্তির জিম্বায় ঐ ব্যক্তিকে রেখে আসেন। এরপর আবুল কালাম আজাদ নামে ঐ ব্যক্তি রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬/০২/২০২১ ইং তারিখে বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির পিটিশন মামলা দাখিল করে।
মামলাটি তদন্তকালীন সময়ে বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান আদালতে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে। ঐ প্রতিবেদনকে চ্যালেন্স করে পুলিশ মহাপরিদর্শক ঢাকা বারাবর বাগমারার স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ এনামুল হক কর্তৃক সুপারিশকৃত ও বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন বাদি হয়ে একটি অভিযোগ ডাক যোগে প্রেরণ করেন।
ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে রাজশাহী জেলা পুলিশের এএসপি (প্রশাসন ও অপরাধ) আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম উক্ত মামলাটি পূনরায় তদন্ত শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই অভিযোগকারী বাগমারা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ ও পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের লিখিত জবান বন্দি গ্রহণ করেছেন। অন্যান্যদের জবান বন্দি গ্রহণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের পূনঃ তদন্ত বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম জানান, পুলিশ মহাপরিদর্শক কর্তৃক আদেশ প্রাপ্ত হইয়া আদালতে পিবিআই কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনের পূনঃ তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে মহাপুলিশ পরিদর্শক বরাবর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।