সর্বশেষ সংবাদ
নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ যে কারণে আবারো বন্ধ হলো রাজশাহীর গাড়ির চাকা মাদক ও অপরাধ দমনে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে র‌্যাব-৫-এর টাউন হল মিটিং দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবো : প্রধানমন্ত্রী মহাদেবপুরে শয়নকক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাকে আধুনিক সাফারি পার্কে রূপান্তর করা হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু রাজশাহীতে আকিজ প্লাম্বিং পাইপের ফুঁ বল চ্যাম্পিয়নশীপের খেলা সম্পন্ন রাজশাহী সেনানিবাসে স্টেশন কমান্ডার-এর সাথে রাসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ আরডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে প্রদ্ধাঞ্জলী

৪৯ গায়েবি মামলার শুনানি থেকে সরে গেলেন প্রধান বিচারপতি

Paris
Update : শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

এফএনএস : রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে রাজারবাগ পীর সিন্ডিকেটের দায়ের করা ৪৯ মামলার বাদীদের খুঁজতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন শুনানি থেকে সরে গেলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমদু হোসেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রেওয়াজ অনুযায়ী, শুনানির নির্ধারিত দিন গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য ৪ নভেম্বর দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ। এদিন আদালতে কাঞ্চনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

কাঞ্চনের পক্ষে রিটকারী অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমাদুল হক বশির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রধান বিচারপতি কেন এ রিভিউ আবেদন শুনানি থেকে সরে গেলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট বশির বলেছেন, রিভিউ শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজারবাগ পীর সংক্রান্ত এ মামলার এর আগেও কোনো শুনানি তিনি করেননি। ফলে আজও তিনি থাকতে চাচ্ছেন না। এই বলে তিনি নিজেকে শুনানি থেকে প্রত্যাহার করেন।

গত ১৯ অক্টোবর ৪৯ মামলার বাদীদের খুঁজতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বারজজ আদালত। এ বিষয়ে গত ২৫ অক্টোবর শুনানি হওয়ার দিন ধার্য থাকলেও সেদিন শুনানি না হওয়ার ধারাবাহিকতায় ২৮ অক্টোবরের কার্যতালিকায় উঠে। অ্যাডভোকেট এমাদুল হক বশির জানান, গত ৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একরামুল আহসান কাঞ্চনের পক্ষে তার আইনজীবী এ রিভিউ আবেদন করেন।

এর আগে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলার নেপথ্যে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদদের নাম উঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে আদালতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ওপর এখনো শুনানি হয়নি। এরপর রিটকারী কাঞ্চনের বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিআইডিকে দেওয়া তদন্তাদেশসহ হাইকোর্টের পুরো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে সিআইডির প্রতিবেদনের ওপর শুনানি করতে গেলে আদালত শুনানি না করে সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (ডিলিট) দিয়ে আদেশ দেন। ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও অরবিন্দ কুমার রায়।

অপরদিকে মফিজুল ইসলাম ওরফে জামাই মফিজুলের পক্ষে ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম কে রহমান, অ্যাডভোকেট ওয়াজি উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট শেখ ওমর শরীফ। ওইদিন অ্যাডভোকেট শেখ ওমর শরীফ বলেছিলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সিআইডিকে তদন্ত করতে দেওয়ার আদেশসহ হাইকোর্টের সেই পুরো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি রিট আবেদনকারী কাঞ্চনের বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা আপিল বিভাগের আদেশের সার্টিফায়েড কপি হাইকোর্টে দাখিল করেন। আপিল বিভাগের আদেশ দেখে তখন হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, যেহেতু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ওপর আপিল বিভাগ থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, ফলে এ মুহূর্তে রিট মামলায় অন্য কোনো আদেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

এ মর্মে হাইকোর্ট মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন। রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় তিনি বেশ কিছু দিন কারাভোগ করেন। পরে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। কাঞ্চনের দাবি, তার বিরুদ্ধে করা সব মামলা ভুয়া।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris