মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া এক দম্পতির ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁদের ছেলে মুক্তার হোসেনের নাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে লোকমান মণ্ডল (৪৭) ও তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের (৪১) মরদেহ উদ্ধার করে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান লোকমান ও দেলোয়ারা। সোমবার ভোরে তাঁদের ছেলে মুক্তার হোসেন স্বজনদের ফোন করে জানান, তাঁর বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর তাঁদের নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অনলাইনভিত্তিক জুয়ায় আসক্ত। নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ হতো বলেও তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, নিহত দম্পতির মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।