স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকের স্বতাধিকারী ডা. আব্দুর বারীর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করে অন্যের জমিতে জোরপূর্বক বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাগমারার উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড় সংলগ্ন নালিশী সম্পত্তিতে এই বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগমারার চাঁনপাড়া মৌজায় আরএস ২৬ নং খতিয়ানের ১০২৭ নং দাগের .২২ একরের কাত .০৩৫ একর (পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত) জমি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মাহাবুর রহমান দিং ও তার ৪ চাচা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, শফি উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সোবহানের মধ্যে মোট ৬টি দানপত্র দলিল সম্পাদন করা হয়। তবে ওই ৬টি দলিলের মধ্যে পূর্ব হতে প্রস্তুত করা আরো দু’টি দলিলে গোপনে মাহাবুর রহমানের স্বাক্ষর নেয়া হয়।
তার মধ্যে একটিতে ৪ চাচাকে ৫১ শতক এবং অন্যটিতে ছোট চাচা আব্দুস সোবহানকে সোয়া আট শতকসহ মোট সোয়া ৫৮ শতক জমি দান করেন বলে দু’টি দলিল সম্পাদন করে তা গোপন রাখেন। মাহাবুর রহমান পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওই দু’টি দলিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি চলমান থাকা সত্বেও ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকের স্বতাধিকারী ডা. আব্দুর বারী ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
এ সময় মাহাবুর রহমান ও অন্যান্য ওয়ারিশগণ বাঁধা দিতে গেলে তাদের মারপিটের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মাহাবুর রহমানের মা মালেকা বেওয়া বাদী হয়ে গত ৯ মে রাজশাহীর বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শুনানী শেষে গত ২০ জুন আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মারুফ আল্লাম নালিশী সম্পত্তিতে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না মর্মে আদেশ দেন।
ওই আদেশ অনুসারে নালিশী সম্পত্তি স্থিতাবস্থায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আদালতের ওই আদেশের পরও বন্ধ হয়নি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। এ বিষয়ে ডা. আব্দুর বারী বলেন, ২০১৭ সালে এওয়াজমূলে ৩.৫০ শতক জমি প্রাপ্ত হয়েই তিনি স্থাপনা নির্মাণ করছেন। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি।