২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

‘বাবুল চিশতীর পুরো পরিবারই ফৌজদারি অপরাধে জড়িত’

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আইন-আদালত
‘বাবুল চিশতীর পুরো পরিবারই ফৌজদারি অপরাধে জড়িত’
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী এবং তার পুরো পরিবার ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, মামলার নথি থেকে দেখা যায়- মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীই মূল অপরাধী। তার অপরাধ কার্যক্রমে তিনি তার পুরো পরিবারের সদস্যদেরকে ব্যবহার করেছেন। পুরো পরিবারই ফৌজদারি অপরাধে জড়িত। বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদ চিশতীকে দেয়া জামিন বাতিলের বিষয়ে করা আবেদনের শুনানিতে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে এসব কথা বলেন আপিল বিভাগের এক বিচারক।

এ সময় বিচারক রাশেদ চিশতীর আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, এই অর্থের বৈধ উৎস কী, আপনারা এখনও প্রমাণ করতে পারেননি। আদালতে রাশেদ চিশতীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএফ হাসান আরিফ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ। এ বিষয়ে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, রাশেদ চিশতীর জামিন শুনানি হয়েছে। এ সময় আদালত কিছু মন্তব্য করেছেন। এগুলো আদালতের অভ্যন্তরীণ আলোচনা। কিছু ডকুমেন্ট দাখিলের জন্য আগামী ১ জুন দিন ঠিক করেছেন আদালত। ওই দিন পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, আজকে (গতকাল বৃহস্পতিবার) জামিনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। কিছু ডকুমেন্ট আগামী ১ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন। শুনানির সময় অনেক কথাই এসেছে বলে জানান তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএফ হাসান আরিফ শুনানিতে আদালতকে বলেন, রাশেদ চিশতী মানি লন্ডারিং অপরাধ করেননি। তিনি বৈধভাবে লেনদেন করে ব্যাংকিং কার্যক্রম করেছেন। আপিল আদালত বলেন, এ বিষয়ে প্রমাণপত্র (কাগজপত্র) দেখান। আইনজীবী হাসান আরিফ বলেন, হাইকোর্টে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি, ওনারা সন্তুষ্ট হয়ে জামিন দিয়েছেন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, সেটা দিয়েছেন ঠিক আছে। আমাদের এখানেও (আপিল বিভাগে) কাগজপত্র জমা দেন। তখন আইনজীবী বলেন, আমাদের সময় দেন আমরা নথিপত্র এফিডেভিট আকারে জমা দেব। এরপর আদালত আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করেন। এর আগে ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে গত ২৬ জানুয়ারি জামিন দেন হাইকোর্ট।

এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করেন দুদক। পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাশেদ চিশতীকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। এরপর তারা লিভ টু আপিল দায়ের করেন। ওই আবেদনের শুনানির সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এমন মন্তব্য করেন। গত বছরের ১৯ মে রাশেদ চিশতীকে একাধিক মামলায় ঢাকার নিম্নআদালত জামিন দিয়েছিলেন।

পরে জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল গুলশান থানায় মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, স্ত্রী রোজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকটির গুলশান করপোরেট শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক এবং বর্তমান সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন