বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের ফুটপাতজুড়ে শিক্ষার্থীবান্ধব বেঞ্চ স্থাপন রাজশাহী নগরীর যাত্রী ছাউনিগুলোর হালচাল পদ্মা ব্যারেজ : আওতায় আসবে রাজশাহীসহ ১৯টি জেলা, ব্যয় ৩৪ হাজার কোটি টাকা ১০ বছর স্কুলিংয়ে এসএসসি, ১২ বছরে এইচএসসি : শিক্ষামন্ত্রী প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী দুইজন গ্রেফতার হলেও নগরীতে নির্মম প্রহারের প্রধান আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে? রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী ও বন্দীদের সেলুনে আধুনিকতার ছোঁয়া যে কারণে বিয়ে করেননি ববিতা হরমুজ পারাপারে নতুন নিয়ম চালু করল ইরান সাবেক কাউন্সিলর বেলালের মাতার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত

রাজশাহী নগরীর যাত্রী ছাউনিগুলোর হালচাল

Paris
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও বেসরকারি উদ্যোগে ১৯৯৭ ও ২০১১ সালে দু’দফায় টিনসেড ও কংক্রিটের প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হয়েছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। জনগনের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর অব্যবস্থাপনার কারনে আজ প্রায় বিলুপ্তের পথে। সরকারি অর্থ তথা জনগণের অর্থে নির্মিত স্থাপনাগুলো সেবাপ্রদানের বিপরীতে এখন বিলুপ্তির পথে; কোন স্থানে সেগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণবস্থায় দাড়িয়ে আছে নিজের অস্তিত্বের শেষ চিহ্ন নিয়ে। সরকারের এই আর্থিক লোকসানের দায়ভার কে নেবে?
সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যসূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১২-১৩ সালের দিকে কংক্রিটের তৈরি যাত্রী ছাউনিগুলোর একাংশ লিজ দেয়া শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত লিজ দেয়ার সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৩টি তে। পরবর্তীতে লিজ দেয়া ছাত্রীছাউনির একাংশ লিজ নিয়ে ব্যবহার করার পাশাপাশি নানাপন্থায় পুরো যাত্রীছাউনিই দখলে চলে যায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তে। কখনোবা নামমাত্র অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে; আবার কখনোবা স্থানীয় রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় পুরোটা ছাউনি। গড়ে তোলা হয় রিক্সা গ্যারেজ, টিভি- ফ্রিজ মেরামতের দোকান, ফাস্টফুট ক্যাটাগরির দোকান ও সেলুনসহ দলীয় ছোটখাটো কার্যালয় কিংবা স্থানীয়দের ক্লাব ঘর। এভাবেই চলে বছরের পর বছর। কখনোবা শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারনেও কিছু যাত্রী ছাউনির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। আর অন্যগুলো কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্নের পথে ধাবিত হতে থাকে। শহরের দু-একটি স্থানে মাঝেমধ্যে দেখামেলে ধ্বংস্তুপের রূপ নিয়ে দাড়িয়ে আছে রাস্তার একপাশে। সেগুলোও আবার কারো না কারো দখলে আছে। কেউবা দখলপূর্বক মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে তুলছে মাসভিত্তিক মাসোয়ারা, কেউবা ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করছে ক্রেতাদের বসার স্থান হিসেবে। কেউবা করছে ছোটখাটো কোন ব্যবসা। বিনষ্ট হয়ে যাওয়া ছাউনীগুলোর দেয়াল ও ছাদের পলেস্টার মাঝেমধ্যেই খুলে পড়ছে নিচে। ধ্বংস প্রায় ছাউনীগুলো অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার জানান দিচ্ছে প্রতিনিয়তই। যেকোন প্রতিকূল আবহাওয়া বা রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে যাত্রী ও পথচারীদের জন্য সেবাপ্রদানের জন্য নগরীর কোন যাত্রী ছাউনী এখন আর স্বচল নেই। বর্ষা মৌসুমে পথচারি আর যাত্রীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে যেগুলো একসময় ঢাল হয়ে দাড়াতো, আজ সেগুলো প্রায় অসার বস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যেকয়েকটা অবশিষ্ট আছে সেগুলোও ধ্বংসপ্রায় অস্তিত্ব নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণবস্থায় দাড়িয়ে আছে কোনরকম। অন্যান্য বছরের মতো আগত বর্ষায় আবারো চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে পথচারি আর যাত্রীদের।
তথ্যসূত্র থেকে জানাগেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৫টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপুর্ন বাস স্ট্যান্ড, তালাইমারী বাস স্টপ, কোর্ট এলাকা, নগরীর লক্ষীপুর, সিএনবি মোড়, শালবাগান, নওদাপাড়া আমচত্বর, কোর্ট এলাকা সহ বেশ কিছু স্থানে নির্মাণ করা হয়েছিল যাত্রী ছাউনি। এখন আর সেই যাত্রী ছাউনিগুলো নেই। একে একে নগরীর সবগুলো যাত্রী ছাউনি দখল আর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে নগরীর লক্ষীপুর মোড়ের যাত্রী ছাউনিটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় নেতাকর্মীর দখলে ছিল। কখনো নেয়া হয়েছিল লিজে আবার কখনোবা ক্ষমতার বলে। আজ সেটিও প্রায় বিনষ্টের পথে। সিএন্ডবি মোড়স্থ যাত্রী ছাউনিটির একাংশ লিজ নিয়ে ব্যবসা শুরু হলেও আজ সেটি পুরোটাই অন্যের দখলে। ভদ্রা-টু-তালাইমারি রোডের রুয়েটের প্রাচীর ঘেষা আরো একটি যাত্রী ছাউনি বিধ্বস্তবস্থায় দাড়িয়ে আছে। সেটি ব্যবহার হচ্ছে চায়ের দোকানের কাস্টমারদের বসার স্থান হিসেবে।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শহরের যাত্রী ছাউনিগুলোর বর্তমান হিসেব-নিকেশ ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি বলতে পারবোনা। এই সম্পর্কে বলতে পারবে প্রকৌশল বিভাগ। সে মোতাবেক প্রকৌশল বিভাগে গেলে সেখান থেকে বলা হয় ‘বিষয়টি অনেক আগের।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris