স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় যুবক তুষারকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হবার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ ঘটনায় তুষারের বাবা মো. নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শামীম (৫৫), হৃদয় (২২), আশিক (২২), মুহিন (১৮) ও আলী হাসান মো. মুজাহিদকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আরএমপির মতিহার থানা পুলিশ। তবে মামলার একজন আসামিকে থানা থেকেই ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার এজাজুল হকের ছেলে আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২)। থানায় করা মামলার পাঁচজন আসামীর মধ্যে গ্ৰেফতার হওয়া দুইজন ছিলেন চার ও পাঁচ নম্বর আসামীর তালিকায়। অন্যতম প্রধান তিন আসামী এখনো রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। পুলিশ বলছে তারা পলাতক। এই নির্মম নির্যাতনের অন্যতম তিন আসামী এখন কোথায় আত্মগোপনে আছে সেটা নিয়ে চলছে নানাকথন। স্থানীয়রা বলছেন বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জোরপ্রচেষ্টা চলছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম এজাহারে থাকলেও তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তাঁর এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থানা থেকেই তাঁকে ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া অন্য আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে পাঠানো হলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মুজাহিদকে ছাড়া প্রসঙ্গে উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘যে কোনো মামলার আসামিকেই থানা থেকে জামিন দিতে পারেন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। আইনে ওসিকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার।’
পুলিশ জানায়, গত ৯ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদয় নামের এক যুবকসহ ৩-৪ জন তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। এ সময় তুষারের বাবা নাজির আলী জানান, সে বাড়িতে নেই। কেনো তার ছেলেকে খোজ করছে জানতে চাইলে, তুষারকে পেলেই কারণ জানতে পারবেন বলে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা। এবং এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ না করার জন্যও সতর্ক করেন তারা।
পরদিন ১০ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তুষার নিজেই অভিযুক্ত হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তুষারের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।