রবিবার

৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
৪০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ দেশের ১৬ মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান রাজশাহীর জলাবদ্ধতা রোধে এক্সাভেটর দ্বারা ড্রেনের কাদা অপসারণ তোমরা প্রত্যেকেই দেশের অ্যাম্বাসেডর : প্রধানমন্ত্রী রাসিকের রাজস্ব কর্মকর্তার নিজ বাসভবনে দোয়ার অনুষ্ঠান নগরীর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকার অনুদান দিলেন রাসিক প্রশাসক মোহনপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ একমন ধান বিক্রি করে হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মুজুরি মহান মে দিবস উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী নাচোলে রেলওয়ের গোডাউনের যায়গা লিজ নিয়ে মালামাল লুটের অভিযোগ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

বিশ্ব শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ

Paris
Update : শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

এফএনএস : করোনা মহামারী পরবর্তী বিশ্বে বিপুল সংখ্যক কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। ওই চাহিদা পূরণে আগে থেকেই দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সরকারি ওই তিন সংস্থা ‘এ্যাক্টিভিটি প্ল্যান ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড মাইগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি ২০২১ সালের মধ্যেই ১০ লাখের বেশি কর্মীকে দক্ষ করে গড়ে তুলবে। কারণ একজন দক্ষ কর্মীকে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করা সম্ভব। সেজন্যই কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সঠিক ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদেশগামী কর্মীদের দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের কর্মদক্ষতা যাচাই করে পাঠানো হবে। বিদেশীগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। তারা যাতে সবাই ‘ইফেক্টিভ’ পন্থায় কাজ করতে পারে সেজন্য ‘দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে জাতীয় একটি সংস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। কারণ উন্নত বিশ্বে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম কাজই হলো দক্ষতা উন্নয়ন। আর কর্মীদের ভাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব। কর্মী যদি দক্ষ হয় তাহলে বিদেশে বেতনও বেশি পাবে।

সূত্র জানায়, এদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে চাকরি করে যে পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠাচ্ছে, তার প্রায় সমপরিমাণ অর্থ বিদেশী দক্ষ কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর দেশ থেকে ৮ থেকে ৯ লাখ কর্মী বিভিন্ন দেশের চাকরি নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দক্ষতার অভাবে বিদেশে তারা অনেক কম বেতনে চাকরি করছে। অথচ অন্য দেশের কর্মীরা দক্ষতার কারণে বেশি বেতন পাচ্ছে। ফলে দেশের প্রায় এক কোটি কর্মী বিদেশে চাকরি করলেও রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়ছে না। প্রতি বছরে রেমিটেন্স আসছে সাড়ে ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত অদক্ষ জনশক্তি রফতানির কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহ দিনে দিনে নেমে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে বিদেশী ৫ থেকে ৬ লাখ দক্ষ জনশক্তি কাজ করছে। তারা প্রায় সমপরিমাণ অর্থ দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। ওই কারণে মন্ত্রণালয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আইওএম’র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে আইএম জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ২০১৫ সালে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪টি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে টেকনিক্যাল ইনটার্নগণ ৩ বছর মেয়াদি জাপানে কাজের সুযোগ পেতো। পারে চুক্তিটি সংশোধন করে টেকনিক্যাল ইনটার্নগণ ৫ বছর মেয়াদি জাপানে কাজের সুযোগ দেয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষে তারা দেশে ফিরে নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারবে। তাদের অর্জিত দক্ষতানুযায়ী শিল্প ও কল-কারখানায় উচ্চ বেতনে ম্যানেজার ও সুপারভাইজার পর্যায় নিয়োজিত হতে পারবে। ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩ বছর থেকে ৫ বছর করা, টেকনিক্যাল ইনটার্ন নির্বাচন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিñিদ্রকরণ, প্রাক-বহির্গমণ প্রশিক্ষণ আরো কার্যকরকরণ, টেকনিক্যাল ইনটার্নদের ৫ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে ম্যানেজার-সুপারভাইজার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তোলা ও আইএম জাপান, টেকনিক্যাল ইনটার্নদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসমূহ থেকে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট গ্রহণ করবে ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

অন্যদিকে কর্মীদের দক্ষতা অর্জনের জন্য জাপান অদক্ষ কর্মী নিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি) হাতে নিয়েছে। ওই প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে টেকনিক্যাল ইনটার্ন নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ওই প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাপান সর্বাধিক পরিমাণ টেকনিক্যাল ইনটার্ন নেবে। এদেশ থেকে নেয়া শিক্ষানবিস কর্মীদের ৫ বছর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেবে জাপান। পরে তারা দেশে ফিরে নিজেই উদ্যোক্তা হতে পারবে। আবার তারা দক্ষ কর্মী হিসেবেও বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবে। এখন পর্যন্ত ওই কর্মসূচির আওতায় জাপান বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার ইন্টার্ন কর্মী নিয়োগ করেছে। তারাও দক্ষ কর্মী তৈরি করে দেশে পাঠাবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris