তানোর প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে কয়েক দিনের প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ক্ষতি হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। ঝরে পড়ছে সরিষার ফুল। সকাল থেকে কুয়াশায় মোড়ানো থাকছে চারপাশ। তীব্র শীতে কৃষক জমিতে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এতে ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।কৃষকেরা বলছেন, এখন মাঠে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যার কাজ চলছে। এ ছাড়া আলু, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলও চাষ হচ্ছে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে এসব ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষকেরা জানান, মাঠজুড়ে এখন রবিশস্য। সরিষা, আলু থেকে শুরু করে একাধিক রবি ফসল চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে হিম বাতাস ও ঘন কুয়াশায় দাপট দেখাচ্ছে শীত।এদিকে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে, উষ্ণতাও ছড়াচ্ছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তীব্র কুয়াশা পড়ছে। নিয়মিত ঘন কুয়াশায় অনেক ফসলেই বেড়েছে রোগবালাইসহ নানা সমস্যা। ফসল চাষে সফলতা পেতে এ সময় সঠিক যত্ন নিতে বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলদে হয়ে যেতে পারে। সরিষায় বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। আলুর পাতায় মড়ক লাগার সম্ভাবনা আছে। এসব বিষয়ে সমাধান পেতে নিকটস্থ কৃষি কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সমাধান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার তালন্দ ইউপির কালনা গ্রামের কৃষক মাহাবুর রহমান মাহাম বলেন, ‘রাতে ফসলে কুয়াশা পড়ে। ভোরে মাঠে গিয়ে সেই সব কুয়াশা সরিয়ে দিতে হয়। আবার অনেক এলাকায় বোরোর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে কুয়াশা রোধ করতে হচ্ছে। এর জন্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউপির ছাঐড় গ্রামের কৃষক আব্দুল ও আইয়ুব বলেন, ‘শীতের এই সময়ে কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় লালচে রং হয়ে যায়। আমরা নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে বীজতলা কুয়াশা থেকে ভালো রাখার চেষ্টা করছি। এছাড়াও সরিষার ফুল ঝরে পড়ছে। মাদারীপুর গ্রামের কৃষক মিলন বলেন, ‘কদিন ধরে শীত আর কুয়াশার কারণে বীজতলার চারাগুলো লাল হয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় দু ভাগে বোরো চাষাবাদ হয়। বিলের জমিতে আগাম এবং আলু উত্তোলনের পর উপরের জমিতে চাষ হয় বোরো ধান।উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় এবারে বোরো চাষ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর এবং বিলের জমিতে ১ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এখানো আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। তিনি কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।