শনিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিভাবক-শিক্ষকদের হাতাহাতি

Paris
Update : বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২

ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছাত্রদের নাম বাদ পড়ায় বগুড়া জিলা স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ‹ুল সূত্র জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর একযোগে দেশের সব সরকারি বিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয় অনলাইন ও স্কুলের নোটিশ বোর্ডে। এ সময় একই শিক্ষার্থীর নাম ভর্তি তালিকায় একাধিকবার পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আবেদন প্রক্রিয়ায় কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে একাধিকবার আবেদন করায় এমনটি ঘটে বলে তারা জানায়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দেশ দেয় একাধিকবার আবেদন করা শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে না। ভর্তি প্রক্রিয়া পর্ব চূড়ান্ত করতে বগুড়া জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করে। এ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারে ৫৪ শিক্ষার্থীর আবেদন বাতিলের তালিকা প্রকাশ করে। একাধিকবার আবেদন, আবেদনের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধনের মিল না থাকা ও অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রায় ২০ জন অভিভাবক স্কুলের প্রশাসনিক ভবনের দরজার ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আসেন। এ সময় অভিভাবকরা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। জিলা স্কুলের দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম ও প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার ইসলাম হেনস্তার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া আল মুসা সাদাফ বলেন, কয়েকজন অভিভাবক সরাসরি স্যারদের ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় তারা হাতাহাতি শুরু করলে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অন্যান্য স্যাররা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই অভিভাবকরা স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর দরজা লাগিয়ে দেই। একাধিকবার আবেদনে বাদ পরা শিক্ষার্থীর অভিভাবক রেফাত আরা বলেন, আমি না বুঝেই দিবা ও প্রভাতি শাখার একবার করে দুই বার আবেদন করেছি। এজন্য আমার ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা আবেদন একাধিকবার নিয়েছেন কেন। এ বিষয়ে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মোস্তাফী জানান, লটারিতে জালিয়াতি করায় গত মঙ্গলবার ৫৪ শিক্ষার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আরও তিন শিক্ষার্থীর আবেদন বাতিল করেছি। মাউশি নির্দেশে আমরা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কিছু অভিভাবক এসে সকালের দিকে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে মাউশির কাছে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছি। বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোরশেদ আলম জানান, কিছু অভিভাবক হট্টগোল করেছিলেন। এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন কোনো ঝামেলা নেই। এ বছর তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী আবেদন করে। এরমধ্যে প্রভাতি ও দিবা শাখায় ২০৬ শিক্ষার্থী লটারিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও ত্রুটি থাকা শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় মাউশি। এজন্য প্রথম তালিকা থেকে সব আসন পূর্ণ হচ্ছে না। অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি করা হবে।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris