সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে কিস্তি দিতে না পারায় কারাগারে পাঠানো সেই শিশুসন্তানসহ মা জামিনে মুক্ত

Paris
Update : বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

মোবারক হোসেন শিশির, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুরে এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এক বছরের শিশুকন্যা সানিয়াকেসহ কারাগারে পাঠানো মা নিলুফা জামিনে মুক্তি দিয়েছেন বিজ্ঞ সহকারী যুগ্ন জেলা জজ (তৃতীয়) বাপ্পী আহম্মেদ এর আদালত। আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় উত্তেজিত এলাকাবাসীসহ সাধারন জনসাধারনের মাঝে সন্তোষ শান্তি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে গুরুত্বের সাথে দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকায় ও অনলাইন মাধ্যমে প্রথম পাতায় ৪ কলামে ছবিসহ ‘দুর্গাপুরে কিস্তি দিতে না পারায় এক বছরের শিশুসন্তানসহ মা কারাগারে’ শিরোনামে প্রধান খবর (লিড নিউজ) হিসেবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকা ও পত্রিকার অনলাইনের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের সকল এলাকা থেকে বিভিন্ন পেশাজীবি জনসাধারন ‘বীজ’ নামক এনজিওর ম্যানেজার মহিরুল ইসলামের অপসারনসহ তাকে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবীতে ফেসবুকের মাধ্যমে ঝড় তুলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে এনজিও ম্যানেজারের সাথে কথা বলে বিষয়টি সহজভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজের কমেন্টস-এ লিখে সকলের উদ্দ্যেশে জানান। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করায় সাধূবাদ সহ ধন্যবাদ জানান দেশের সকল প্রান্তথেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়তোলা ফেসবুক ব্যবহারকারী বিভিন্ন পেশাজীবি সাধারন জনসাধারন। এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়া সন্তানসহ মাকে দেখতে তাঁর বাড়ী মাড়িয়া গ্রামে ভিড় জমান বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারন জনসাধারন। দেখতে এসে অনেকেই সাহায্য সহযোগিতা করছেন সেই সাথে সকল ধরনের সমস্যায় তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অনেকেই আশ্বাসও দেন বলে জানান এলাকাবাসী। দুর্গাপুর থানা পুলিশ গত ২৪ জানুয়ারী মধ্যোরাতে গ্রেফতার করে থানায় রাখে এবং ২৫ জানুয়ারী সকালে আদালতের নিকট তাদের হস্তান্তর করে।

রাজশাহী বিজ্ঞ যুগ্ন জজ (তৃতীয়) আদালত বাপ্পী আহমেদের আদালতে আসামী নিলুফা বেগমের পক্ষে এ্যাডভোকেট হিমেল হোসনাইন শিশুসন্তানের দিকে দেখে মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিনের আবেদন জানালে বিজ্ঞ আইনজীবি জামিন আবেদন মঞ্জুর করে তাদের জামিনে মুক্ত করে দেন। এবিষয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের প্রধান আসামী নিলুফা বেগমের স্বামী আব্দুস সালাম বলেন, এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে না পারায় গত রবিবার মধ্যে রাতে আমার শিশুসন্তানসহ আমার স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর কিছু সময় পরে পুরো গ্রামের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিলো। এমনকি এনজিও ঘেরাও করার জন্য গ্রামবাসী একজোট হয়েছিলো।

সে সময় আমার এক শুভাকাঙ্খী বলে আগে জামিনে মুক্ত করে বৌ-ছেলেদের নিয়ে আনা হোক তারপর এনজিওর ম্যানেজারের সাথে মোকাবিলা করা হবে। আমার শিশু সন্তানসহ আমার স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে মুক্তি নিয়ে এসেছি। আমি শুনলাম আমাদের ইউএনও সাহেব এনজিও ম্যানেজারের সাথে এবিষয়ে কথা বলেছে এবং এই সমস্যা উভয় পক্ষের সাথে বসে সমাধান করে দিবে। ইউএনও সাহেবের এই কথা গ্রামবাসী শোনার পর বিরাজমান উত্তেজনা শান্তিতে রুপ নিয়েছে। এলাকাবাসীসহ আমি ইউএনও মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমি দিনমজুর হতদরিদ্র মানুষ, আমার দিকটা বিবেচনায় রেখে এনজিওর এই বিষয়টা সুষ্টু সমাধান করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

জামিনে মুক্তি পাওয়া নিলুফা বেগম বলেন, পুলিশ রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় আমার শিশু কন্যা খুব ভয় পেয়েছে। এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। বাচ্চার শরীরে প্রচন্ড জ্বর এসেছে। আল্লাহ তায়ালাই যানে বাচ্চার এই সমস্যা সমাধান হবে নাকি এমনই থাকবে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিলুফা বেগম। এ বিষয়ে ‘বীজ’ এনজিওর ম্যানেজার মহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পায় বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ব্যাক্তিরা বিভিন্ন জন বিভিন্ন কমেন্টস করছে। আমি তাৎক্ষনিকভাবে ‘বীজ’ এনজিওর ম্যানেজারের সাথে কথা বলি এবং বিষয়টি সহজভাবে সমধান করার জন্য বলেছি। ২/৩ দিনের মধ্যে ম্যানেজারসহ ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজনদের নিয়ে একসাথে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, মাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামের জনতা ব্যাংকের চেক জমা দিয়ে ‘বীজ’ এনজিও থেকে একলক্ষ টাকা ঋণ নেয়। ৪মাসের কিস্তি দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিস্তি দিতে না পারলে ‘বীজ’ এনজিও ম্যানেজার জমাকৃত চেক ডিজনার করে নিলুফা বেগমের নামে মামলা করে। এই মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ২৪ জানুয়ারী এক বছরের শিশুসন্তান সহ নিলুফা বেগমকে গ্রেফতার করে ২৫ জানুয়ারী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করে। আসামী পক্ষের আইনজীবি সেই দিনেই দুধের শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ আইনজীবির কাছে জামিনের আবেদন জানালে আদালত শিশুসন্তানের দিক বিবেচনা করে জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আসামী নিলুফা বেগমকে মুক্তি দেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris