মঙ্গলবার

২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়ামতপুরে আমন ক্ষেত সবুজে সবুজে ভরে গেছে

Paris
Update : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর
নওগাঁর নিয়ামতপুরের চারিদিকে এখন সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ যেন সবুজের বিছানা। যতোদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। বাতাসে ধানের পাতা দুলছে আর কৃষকের মনে আনন্দ দুলছে। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষিবিদরা।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সময়মত আকাশের বৃষ্টিপাত না হলেও এবছর দেখা দিয়েছে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। চলতি আমন মৌসুমে নিয়ামতপুর উপজেলায় এবার ২৯হাজার ৯শ ১০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল যেখানে ২৯ হাজার ৪ শ ৫ হেক্টর জমিতে। আমনের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও ৫০৫ হেক্টর জমিতে এবার বেশি ফসল ফলিয়েছে কৃষক। এখন পর্যন্তু আমনের গাছ বেশ ভাল রয়েছে। আমনের গাছ ভাল রাখতে আর ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা দিন রাত সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকরা এখন ক্ষেতের আগাছা তোলা, পোকামাকড় দমন করতে স্প্রে করা, জমির পানি দেখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকলে এবছর নিয়ামতপুর উপজেলায় প্রায় লক্ষাধীক মেট্রিকটন আমন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকদের দম ফেলার সুযোগ নেই। ধান গাছ পরিচর্যা, কীটনাশক স্প্রে করা আর আকাশের পানি জমিতে আটকিয়ে রাখার কাজে সারানই ব্যস্ত রয়েছেন কৃষকরা। যেন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে আমনের গাছ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন গাছের পাতা। আর আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন।
উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের কাপাস্টিয়া গ্রামের কৃষক আনিছার জানান, এবারে অনাবৃষ্টির কারনে সেচ খরচ অনেক বেশি। এবারে বিঘাপ্রতি প্রায় ২/৩ হাজার টাকা বেশি খরচ গুনতে হবে। তবে এবারে মাঠের ফসলে তেমন কোন রোগ বালাই নাই। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশরা করছেন তিনি।
নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নের রুপনারায়নপুর গ্রামের ফিরোজ, ভাবিচা ইউনিয়নের কুমরইল গ্রামের ধলা, বাসুদেবপুর গ্রামের তপন জানান, এবারে অনাবৃষ্টিতে ধান রোপন করতে সময় লেগেছে তাছাড়া লেবার খরচ, জালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, সারের অতিরিক্ত মূল্যে কেনা আর পানিকিনে জমিচাষ করতে খরচ বেশি হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ধারদেনা হয়েছে। ধানের ন্যয্য মূল্য না পেলে পথে বসতে হবে। বর্তমানে আকাশের পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর তেমন কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকার কারনে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা। একই সাথে আমনের ভাল দাম পেলেই তারা লাভবান হবেন বলে জানান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম মারুফ বিন রশিদ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris