পাবনায় হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পর এক নারীসহ ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান মুন্নী এই রায় দেন। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সাঁথিয়ার ভিটাপাড়া গ্রামের আইয়ুব নবী ওরফ নাউদ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন আসামিরা। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাঁথিয়ার ভিটাপাড়া গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে বাছেদ, আবদুল রহিমের ছেলে ফুলচাদ, আবদুল রহিমের স্ত্রী আলেয়া খাতুন, মৃত হযরত আলীর ছেলে মিন্টু আজম, শহীদ আলীর ছেলে খোকন মিয়া, আবদুল মালেকের ছেলে শামীম হোসেন, সকিম উদ্দিনের ছেলে আনার, মৃত ওহাবের ছেলে শাহাদাত ও মৃত জুলমতের ছেলে গোকুল।
আসামিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। রায় ঘোষণার সময় বাকি সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব নবী ওরফে নাউদের সঙ্গে আসামিদের শত্রুতা চলছিল। এরই জের ধরে ২০১১ সালের ২৬ জুলাই রাতে আসামিরা আইয়ুব নবীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরদিন আইয়ুব নবীর খণ্ডিত লাশ সাঁথিয়ার ভিটাবাড়ি এলাকায় ভাসমান একটি নৌকার ওপর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুলতানা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। উভয় মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলা চলাকালীন এক আসামির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী সরদার বলেন, এটা একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাক্ষ্য ও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম এ মতিন বলেন, সাক্ষ্য ও তদন্তে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়ে তার মক্কেলরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।=এফএনএস