নাচোল থেকে প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলে রাসায়নিক সার সংকট মোকাবেলায় শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ছুটির দিনেও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কর্মকর্তাগণ নির্দিষ্ট ডিলারদের দোকান থেকে সরাসরি কৃষকদের নিকট সার বিশেষ করে পাটাশ ও ডিএপি বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার নাচোল বাজারের ৩টি সার ডিলারের দোকানে সকাল ৬টা থেকে সারের জন্য কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদের তত্বাবধানে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে ডিএপি ও এমওপি(পটাশ) সার বিতরণ করা হয়। কৃষকদের অভিযোগ চাহিদামত সার পাচ্ছেন না, পেলেও ডিলারগণ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্য নিচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদ জানান, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী
অফিসারের নির্দেশে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চলতি মাসে ইউরিয়ার সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৮৬০ মেঃ টন, উত্তোলন ৬৮০ মেঃ টন, ডিএপি বরাদ্দ ছিল-২৪১ মেঃ টন, সম্পূর্ণই উত্তোলন করা হয়েছে, এমওপি(পটাশ) বরাদ্দ ছিল ১৫০ মেঃ টন, উত্তোলন হয়েছে প্রায় ১২০ মেঃ টন, টিএসপি বরাদ্দছিল ৬৫ মেঃ টন, সম্পূর্ণই উত্তোলন করা হয়েছে।
চলতি আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৫২০ হেক্টোর ধরে সারের জন্য চাহিদাপত্রের বিপরিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এমওপি(পটাশ) পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, কৃষকরা না বুঝেই ধান ক্ষেতে বেশী মাত্রায় পটাশ প্রয়োগ করছেন। পরিমিত সার ব্যবহার না করলে পোকার আক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কৃষকরা শুনছেন না। তবে অল্প কিছু দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। অধিক মূল্য আদায়ের অভিযোগে ও সার মজুদের আশংকায় সরাসরি কৃষকদের কথা বিবেচনা করে গ্রাম পর্যায়ের খুচরা সার ডিলারদেরকে অল্প সার সরবারাহ দেওয়া হয়েছে।
২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার ৬জন সার ডিলারকে বিভিন্ন অনিয়মের অপরাধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি মোহাইমেনা শারমীন ভ্রম্যমান অভিযান পরিচালনা করে অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। কৃষকদের নিকট থেকে অভিযোগ পেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিক সার ডিলারের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আম্বাস প্রদান করেছেন।