মঙ্গলবার

২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Paris
Update : রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

আককাস আলী
শস্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত নওগাঁয় আউস ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা এবং দাম ভালো পাওয়ার আশায় আউশ চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক ঝরছে। মহাদেবপুর উপজেলার প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য হিসেবে অর্থনীতিতে ধান উৎপাদন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলায় ১৭০ কোটি টাকার আউশ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এখানকার মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস ধান-চাল। দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী এ উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আউশের আবাদ হয়েছে। এবার ৬৫ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আউশ আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারে এবং কোন সমস্যায় না পড়েন এ জন্য তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এবারও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আউশ মৌসুমে নওগাঁ সদরে ৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১৫হাজার ৬৭০হেক্টর, পত্মীতলায় ৯হাজার ২৪০হেক্টর, ধামইরহাটে ৩ হাজার ৬৯০হেক্টর, সাপাহারে ১ হাজার ৮১৫হেক্টর, পোরশায় ১ হাজার ১২০হেক্টর, মান্দায় ১৯ হাজার ৭০০ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ১১হাজার ৭০০ হেক্টর রাণীনগরে ১ হাজার ৪২৫হেক্টর, আত্রাইয়ে ১ হাজার ৫৩৫হেক্টর, বদলগাছীতে ১হাজার ৫২০হেক্টর, জমিতে চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আউশের প্রণোদনা হিসেবে জেলায় ৩০ হাজার ২৬৮জন কৃষকদের মধ্যে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০কেজি এমওপি সার সরবরাহ করছেন। কৃষি বিভাগ আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈশ্বরপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে বীজ, সার বিনামূল্যে প্রদান করায় আমরা এ ধান চাষ করেছি। বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের পরেই আউশ ধান চাষ করা হয়ে থাকে। ফলে জমি পতিত না থাকায় জমিতে আগাছা জন্মাতে পারে না। অন্যদিকে প্রাকৃতিক বৃষ্টিতেই প্রায় এই আউশ ধান চাষ সম্পন্ন হয়। এই ধান ঘরে তোলার পর আমন ধান চাষ করা হয়। বছরে বোরো, আউশ ও আমন ধান চাষ করায় কৃষকদের বেশি লাভ হয়ে থাকে। মহাদেবপুর উপজেলার স্বরসতীপুর গ্রামের খাঁপাড়ার কৃষক আব্দুস ছাত্তার জানান, গত বছর ৪ বিঘা ধান লাগিয়েছিলেন। প্রতি বিঘায় ১৭ মণ করে ধান উৎপাদন হলেও ৫০০ টাকা থেকে ৭০০টাকায় বিক্রি করেছিলেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মনজুরে মাওলা জানান, আউশ ধান চাষে তেমন সেচ ও সারের প্রয়োজন হয় না। জেলায় আউশ মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার কৃষকদের মধ্যে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে সার ও ধান বীজ দেওয়া হয়েছে যাতে কৃষকরা বেশি করে আউশ ধান চাষ করেন। তিনি বলেন,কৃষি বিভাগ আশা করছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অপর প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, জেলার বাকি কৃষকদের কৃষি সুবিধা দিতে পারলে আগামীতে নওগাঁয় আরো ধান উৎপাদন চাষে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হবে। ফলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris