অসদাচরণের দায়ে তিন বিচারককে ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেনÑ জামালপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক (বর্তমানে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক) (জেলা ও দায়রা জজ) এম. আলী আহমেদ, যশোরের সাবেক জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (বর্তমানে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুজ্জামান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার (যুগ্ম জেলা জজ) (বর্তমানে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা) মো. মাহমুদুল হাসান। গতকাল শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। -এফএনএস
বিচারক এম. আলী আহমেদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২(চ) মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগের দায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে বিভাগীয় মামলা নং-০১/২০২১ রুজু করা হয়। ব্যক্তিগত শুনানি শেষে তাকে এ অভিযোগের দায়ে ‘তিরস্কার’ দণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ যাচাই করা হলে সুপ্রিম কোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেন। এ কারণে এম. আলী আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগের দায়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস(শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২(চ) মোতাবেক ‘তিরস্কার’ দণ্ড আরোপ করা হয়।
বিচারক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি ৩(বি) ও ৩(ডি) অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে বিভাগীয় মোকদ্দমা নং-৩/২০১৭ রুজু করা হয়। কারণ দর্শানোর প্রেক্ষিতে তার লিখিত জবাব, ব্যক্তিগত শুনানিতে বক্তব্য, বিভাগীয় মোকদ্দমার তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের আলোকে মো. মাহমুদুল হাসানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫-এর বিধি ৪(২)(এ) অনুযায়ী ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করা হলো।
মো. মাহমুদুল হাসান সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২(চ) মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগের দায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে বিভাগীয় মামলা নং-৩/২০১৯ রুজু করা হয়। এ কারণে মো. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগের দায়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২(চ) মোতাবেক ‘তিরস্কার’ দণ্ড আরোপ করা হয়।