শাহানুর রহমান রানা : রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পাশাপাশি মামলা চলমানবস্থায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুণরায় ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কামাল উদ্দিন আহমেদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আরডিএ কর্তৃক অভিযুক্ত বরাবর একাধিকবার নকশা বহির্ভুত নির্মাণ অংশ অপসারনের নির্দেশ প্রেরণ করার পরেও সেটি অমান্য করাতে গত ০৩.৪.২০১৭ তারিখে অফিস আদেশ বলে ইমারত পরিদর্শক কামাল রেজা বাদী হয়ে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাজশাহীতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন।
যার মামলা নং ৫২৮/১৭ (বোয়ালিয়া )। বাদী মৃত্যুবরণ করার পর মামলাটির বাদী হন ইমারত পরিদর্শক মাকসুদুল আহসান। উক্ত মামলাতে অভিযুক্ত দোষীসাব্যস্ত হওয়াতে বিজ্ঞ আদালত পলাতক আসামী কামাল উদ্দিনকে এক মাসের কারাদন্ড ও ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ন্যায় বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে আপীল করে সেখান থেকে জামিন নেন। জামিন নিয়ে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন পুণরায় একই অপরাধ সংঘটিত করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ ‘আরডিএ’ অথরাইজড অফিসার মুহাঃ আবুল কালাম আজাদ নিজেও বিব্রতবোধ করেন।
১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারা ভঙ্গের প্রেক্ষিতে কামাল উদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিকে পলাতকবস্থায় ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন গত ১৮.১০.২০২১ ইং তারিখে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে অপরাধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দন্ডিত হয়েছিলেন উচ্চ আদালতে আপীল পূর্বক মামলা চলমানবস্থায় সেই একই ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে নির্মাণ স্থগিত থাকা দ্বিতল ভবনটি পাঁচ তলামূখি নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। যা সুষ্পট ভাবে আইনকে অবহেলা আর অসম্মান তুল্য অপরাধ বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। কোন মামলা চলমানবস্থায় একই ধরনের অপরাধ আবরো আপনি করছেন জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন বলেন প্রতিনিধিকে বলেন, আরডিএ’র অনুমতি নেয়া ছাড়াও সবকিছু ম্যানেজ করেই আমি আমার ভবনটির উর্দ্ধমুখি নির্মাণ কাজ আবারো শুরু করেছি! সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি কিছুটা পরিস্কার হলেও; কাকে কিভাবে ম্যানেজ করা হলো সেটি যেনো অলিক বিষয়ে পরিণত হলো এবিষয়ে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন আর বেশি কিছু না বলায় !
কামাল উদ্দিনের কথানুযায়ি আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার মুহাঃ আবুল কালাম আজাদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা চলমান থাকাবস্থায় অভিযুক্তের পক্ষ কর্তৃপক্ষ কখনোই নিতে পারেনা। আর; নতুন করে কোন অনুমতি দেবারও বিন্দু পরিমান সুযোগ নেই মামলা অবসান না হওয়া পর্যন্ত। কামাল উদ্দিনের এই ধরনের বেআইনী কার্যকলাপে অথরাইজড অফিসার নিজেও বিব্রতবোধ প্রকাশ করে বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে আমরা আমাদের আইনজীবী দ্বারা বিজ্ঞ আদালদকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করবো। দোষিসাব্যস্ত ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিকার ও ন্যায় বিচার পাবার আশায় উচ্চ আদালতে আপীল করার অধিকার রাখেন। কিন্তু সেই অধিকারকে ঢাল হিসেবে অপব্যবহার করাটা অন্যায় বলে মন্তব্য ঐ এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের।
উল্লেখ্য, নগরীর শিরোইল মৌজার অন্তর্গত যার আর.এস খতিয়ান ৮৮৯, আর.এস দাগ নং ৪০৭৬, জমির পরিমান ০.০৪৯৫ একর জায়গার উপর ৫ম তলা বাড়ি নির্মানের জন্য গত ০৫.০৬.২০১৫ ইং তারিখে নকশা অনুমোদন লঙ্ঘন করে দিতল বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন। অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে বাড়ি চতুর্দিকের উপরিভাগে অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে বাড়ির কাজ চলমান রাখেন। ভবনটির উত্তরের অংশে ০.৪৩ মিটার, দক্ষিনে ০.৯০ মিটার, পূর্বে ০.৪০ মিটার এবং পশ্চিমে ৩.০৭ মিটার জায়গা অনুমোদিত নকশা বহির্ভুত নির্মাণ করায় মুসফিকা মাসতুরা’র অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আরডিএ গত ১৭.৫.২০১৫ ইং তারিখে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে নকশা বহির্ভুত নির্মাণ অংশ অপসারনের নির্দেশ দেয়।
আসামী উক্ত নির্দেশনা অমান্য করাই ২১.৬.২০১৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধ নির্মাণ অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য দ্বিতীয়বার নির্দেশ প্রদান করেন। তৎপ্রেক্ষিতে গত ১৬.৭.২০১৫ তারিখে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযুক্ত ব্যক্তি যে লিখত জবাব সেটি সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১০.৮.২০১৫ এবং সর্বশেষ গত ২০.০৩.২০১৬ তারিখে চতুর্থবারের মতো রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অবৈধ নির্মাণ অংশ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। বারবার প্রেরিত নির্দেশনা অমান্য করাতে অবশেষে গত ০৩.৪.২০১৭ তারিখে অফিস আদেশ বলে ইমারত পরিদর্শক বাদী হয়ে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাজশাহীতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন।