বুধবার

২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

মেয়রের উদ্যোগে পথ পেলো সেই অবরুদ্ধ দুই পরিবার

Paris
Update : শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর ছোটবনগ্রাম মাঝিপুকুর নিউ কলোনি এলাকায় জোরপূর্বক রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল রাজশাহী আদালতের আইনজীবী সোমা খাতুনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রাচীর ভেঙ্গে গৃহবন্দি দুই পরিবারকে মুক্ত করেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমরানুল হক। তিনি বলেন, ‘সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল বিকেলে প্রতিবেদনটি দেখেন।

প্রতিবেদনটি দেখার পর তিনি বিষয়টি আমলে নেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি অত্যন্ত বর্বরোচিত এবং গর্হিত কাজ। এর সমস্যার সমাধান কল্পে তিনি গত বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতেই রাসিকের একজন সার্ভেয়ার, গৃহবন্দি পরিবারের পক্ষের সার্ভেয়ার ও অভিযুক্ত পক্ষের একজন সার্ভেয়ার সহ আমাকে নির্দেশ দেন ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গার সঠিক পরিমাপ করার। তিনি নির্দেশ দেন, আইনজীবী (সোমা খাতুন) যদি তার জমির দলিলের চেয়ে অধিক জায়গা দখল করে, তবে তার প্রাচীর ভেঙ্গে গৃহবন্দিদের পথ বের করে দেওয়ার। আর যদি গৃহবন্দি ওই দুই পরিবার যদি বেশি জায়গা দখল করে থাকে তবে তাদের বাড়ি ভেঙ্গে যেনো আইনজীবী তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু আমরা আজ সকাল থেকে পুরো জায়গা মেপে দেখেছি আইনজীবী সোমা তার জমির চেয়ে অধিক জায়গা দখল করে রেখেছেন। আর এ কারণে আমরা মাটি মাপার পর ওই প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছি এবং তাদের সর্তক করেছি বলে জানান রাসিকের এ নির্বাহী কর্মকর্তা। রাসিকের এ নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাচীর ভাঙ্গা নিয়ে যাতে পরবর্তীতে কোনো প্রকারের গন্ডগোলের সৃষ্টি না ঘটে ওই ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানা পুলিশকে মেয়র সাহেব আগেই নির্দেশ প্রদান করেছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই আজ প্রাচীর ভাঙ্গার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য তিন পরিবারকেই রাসিকে মাধ্যমে পুরো জমি ভালো ভাবে মেপে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের জন্যও বলা হয়েছে।

এদিকে অবরুদ্ধ মুরাদ শেখের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, টানা একদিন যাবত আমরা খুব কষ্টে কাটিয়েছি। এই রমজান মাসে বাইরে যেতে পারি নাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। প্রাচীরে মই ব্যবহার করে বাইরে যেতে হয়েছে। বাচ্চারা তাদের ক্লাশ-কোচিং এও পর্যন্ত যেতে পারে নাই। সেখানে মেয়র সাহেবের কাছে সংবাদ পৌছানোর পর তিনি আমাদের মতো সাধারণ জনগণের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, প্রাচীর ভেঙ্গে আমাদের যাতায়াতের রাস্তা করে দিয়েছেন। মেয়র সাহেবের এমন মহৎ উদ্যোগের কারণেই আমরা আজ যাতায়াতের রাস্তা পেলাম। তার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই।

অপর গৃহবন্দী পরিবারের মেয়ে মোসা. জান্নাতুন ফেরদৌসী বলেন, ভেবেছিলাম এমন প্রভাবশালী লোকেদের বিরুদ্ধে কেউ হয়তোবা কোনো পদক্ষেপ নেবে না। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর শ্রদ্ধেয় মেয়র সাহেব আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দিয়েছেন। আমাদের তিনি গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করেছেন এবং যাতায়াতের পথ বের করে দিয়েছেন। এজন্য তার প্রতি জানায় চীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তবে জান্নাতুনের অভিযোগ, প্রাচীর ভাঙ্গার সময় আমার ছোটভাই জহিরকে এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যায়। সে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলে- তোর বোন (জান্নাতুন) অনেক বাড়াবাড়ি করে ফেললো। অনেক বাড় বেড়েছে, খুব দৌড়াদৌড়ি শিখে গেছে।

তাকে সাবধানে থাকতে বলিস। একবার জেল খেটেছি, প্রয়োজনে আবারো জেল খাটবো। তার শেষ দেখে ছাড়ব। তিনি বলেন, এ হুমকি শোনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার বেশ শঙ্কায় রয়েছি। এ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. এমরান আলী বলেন, প্রাচীর ভাঙ্গার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং আইন শৃংখলা যেনো সুষ্ঠভাবে বজায় থাকে সে লক্ষ্যে আমাদের চন্দ্রিমা থানা পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল। তাছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য। বর্তমানে গৃহবন্দি ওই দুই পরিবার যাতায়াতের রাস্তা পেয়েছে।

ভুক্তভোগী এক পরিবারকে হুমকি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো প্রকারের অপ্রীতিকর ঘটনা যেনো না ঘটে সে জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া এমন কোনো অভিযোগও আমার থানায় কেউ দেয়নি। তবে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আইনের ব্যতয় ঘটায় তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris