আলফি হোসনে : রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী পবা উপজেলার নওহাটা খাদ্য গুদামে চাল প্রবেশ ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হল এ ঘটনায় ৫টি ট্রাক আটক করে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে গুদাম কর্মকর্তা মিজানুর দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৭ মে) সকালে ৩০ কেজি ওজনের ৬৬৭ বস্তা করে মোট পাঁচটি ট্রাক চাল গুদামে আনলোড করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ওএমএস ডিলার ও কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাকগুলো আটক করে কাগজপত্র যাচাই শুরু করেন। পরে ট্রাকের চালানে “মাসুম ট্রেডার্স”, খাজানগর, কুষ্টিয়ার নাম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাকে সমপরিমাণ চালের হিসাব ও গুদামের নিরাপত্তা প্রহরীর স্বাক্ষর থাকার অভিযোগও উঠে আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি খাদ্য গুদামে সাধারণত স্থানীয় কৃষক ও মিল মালিকদের মাধ্যমে চাল সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও অন্য জেলা থেকে চাল এনে গুদামে প্রবেশ করানো হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত ও অনিয়ম। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিসিফুড (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহম্মেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে গুদামে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরুন্নবীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এবিষয়ে জানতে চাইলে নওহাটা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই গুদামে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে।