ফারুক আহমেদ : শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে এক বুক কষ্ট নিয়ে বুকে ৪ চাকার বিয়ারিং গাড়ি বেঁধে মানুষের দ্বারে দ্বার ঘুরছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোলাম মোস্তফা সহযোগিতার আশায়। অসহায় গোলাম মোস্তফার পৃথিবীতে আপনজন বলে কেউ নেই। জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার পানকৈড় আবাদ পুকুর এলাকার গোলাম মোস্তফা ২ পা দিয়ে আর চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু তার সাংসারিক বোঝা আর পিছু ছাড়ছেনা। বাবা মাকে হারিয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে এরপর গোটা সংসারের দায়িত্ব তার উপর। তিনি পঙ্গু বলে তার আত্মীয়-স্বজনেরা দেখাশোনা করে না। তার সংসারে স্ত্রী মেয়ে সন্তানসহ ৪জনের পরিবার। সংসারে তিনি একমাত্র উপার্জন ক্ষমতা ব্যক্তি। তার নেই কোন ধন-সম্পদ, জমি -জমা, টাকা পয়সা। অভাবে সংসার সময় পেলে নেমে পড়েছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য সহযোগিতার আশায়। গোলাম মোস্তফার এরকম শারীরিক পরিস্থিতি দেখে উপস্থিত লোকজন যে যা পারছেন ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা পর্যন্ত তাকে সাহায্য করছেন সহযোগিতা করছেন। কেউবা আবার পেট ভরে খাইয়ে দিচ্ছেন। অসহায় গোলাম মোস্তফা আএাই উপজেলার গ্রামগঞ্জ পাড়া মহল্লার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বাগমারা উপজেলার শিকদারী, ভবানীগঞ্জ মচমইল, মোহনগঞ্জ হাঁসনিপুর তাহেরপুর।, হাট গাঙ্গোপাড়া সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় সাহায্যের জন্য বুকে ৪ চাকার বিয়ারিং গাড়ি বেঁধে ছুটে চলেছেন জীবন জীবিকার তাগিদে। তার এরকম অসহায়ত্ব দেখে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সহযোগিতা করছেন। অসহায় গোলাম মোস্তফার দুই পা পঙ্গু হলেও ৪ চাকার বিয়ারিং গাড়ি ঠেলতে হয় তার দুই হাত ব্যবহার করে।তাছাড়া তিনি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারেন না। গোলাম মোস্তফার এরকম অসহায়ত্ব দেখে মানুষের চোখে মুখে চলে আসে দুঃখের ছাপ। তিনি মন থেকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না চাইলেও বাধ্য হয়ে তাকে ঘুরতে হচ্ছে সাহায্যের জন্য সহযোগিতার জন্য পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেবার জন্য। তার দুই ছেলে মেয়ে স্কুলে ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন।আর স্ত্রী সংসার আগলে রাখেন আর তিনি সহযোগিতার জন্য এখানে থেকে সেখানে ছুটেম চলেন। আত্রাই বাগমারা দুর্গাপুর মোহনপুর শহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে উপজেলা সদরে মানুষের কাছে তিনি যান একটু সাহায্যের আশায় সহযোগিতার আশায়। অসহায় পঙ্গু গোলাম মোস্তফা জানান, তার শেষ ভরসা এই ৪ চাকার বিয়ারিং গাড়ি আর নিজের বুক।বুকের কাঠি ব্যাথা ধরে যায় এবং হাত লেগে যায় তবুও তিনি বিয়ারিং গাড়ির ছেলে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতা আদায় করছেন। কি করবেন তার এখন করার কিছুই নেই। তিনি শারীরিকভাবে পঙ্গু হওয়ায় বাধ্য হয়ে বুকে বিয়ারিং গাড়ি বেঁধে ছুটে চলছেন জীবন জীবিকার তাগিদে। বর্তমান সময়ে আগের চেয়ে ব্যয় বেশি তাই একদিনও বসে থাকতে পারেন না। আরাম করতে পারেন না। বিয়ারিং গাড়িতে চেপে প্রতিদিন রোজগার করতে হয় এভাবেই। খুবই কষ্টের জীবন কষ্ট লাগে হবে তিনি বিয়ারিং গাড়িকে একমাত্র ভরসার বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ঈদ চাঁদে মানুষ আত্মীয়-স্বজন পাশে দাঁড়ালেও তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বছরের অন্য কোন সময়ে। যেহেতু তিনি বেঁচে আছেন এখনো তাই পরিবারের ছেলে মেয়ের উপর বোঝা চাপাতে চাইছেন না। তুমি পঙ্গু এখন আর কি করবেন তাই সবার সহযোগিতায বেঁচে আছেন। এলাকার লোকজন বলছেন, গোলাম মোস্তফা পঙ্গু হলেও তার মন-মানসিকতা অনেক ভালো। তাই তিনি সব শ্রেণীর পেশার মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন। তার ছেলে মেয়ে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। সময়ের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি । ছেলেমেয়েদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারেন না তিনি। এজন্য সময় সময় তিনি অনেক কষ্ট উপভোগ করেন। কাউকে বুঝতে দেন না। বুকে কষ্ট বেদনা দুঃখ দুর্দশা নিয়ে বিয়ারিং গাড়িতে চেপে চলেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা পাবার আশায়। প্রতিবন্ধী ভাতা যা পান তা দিয়ে তার সংসার চলে না। তাই পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে শেষ পর্যন্ত ৪ চাকার বিয়ারিং গাড়ি বেছে নিয়েছেন জীবন-জীবিকার তাগিদে। তিনি যতক্ষণ বেঁচে আছেন এভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তার সংসার টিকিয়ে রাখতে। বিভিন্ন সড়কে তিনি বিয়ারিং গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করেন মানুষের সহযোগিতা নিচ্ছেন অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে। সড়কে অনেক ছোট-বড় যান্ত্রিক যানবাহন বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবুও তিনি সাহস নিয়ে চলছেন শুধু ছেলে মেয়েদের মুখে হাসি খুশি রাখার জন্য।দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনা যাই থাক গোলাম মোস্তফার মনে।