চারঘাট প্রতিনিধি : বই, খাতা, কলম বা পেনসিল ছাড়াই চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে কিষান-কিষানিদের। এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নাম কৃষক মাঠ স্কুল। এ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিরক্ষর। তবে এ স্কুলে শেখানো কৃষিপ্রযুক্তি ক্ষেতে প্রয়োগ করে চারঘাট উপজেলার অনেক কিষান-কিষানির দিন বদলে গেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে নিরাপদ ফসল উৎপাদন ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (আই পি এম) প্রকল্পের আওতায় কৃষক মাঠ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এখন পর্যায়ক্রমে চারঘাটের ১০টি স্কুলে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে দুইদিন পাঠদান দেওয়া হয়। ছয় মাস মেয়াদে প্রতিটি স্কুলে ৫০ জন কিষান–কিষানি বিনা বেতনে ভর্তি হন। তাঁদের সপ্তাহে দুদিন দুজন শিক্ষক দুই ঘণ্টা করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের শিক্ষা দেন। পরিচয় করানো হয় উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাতের সঙ্গে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে হাঁস-মুরগি, গাভি, ছাগল পালন, মাছ চাষ করে বাড়তি আয়ের পথও দেখানো হয়।
সরেজমিন উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের মালেকার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুই দল কিষান–কিষানি ক্লাসে বেশ মনোযোগী। শিখছেন কৃষির নানা উন্নত প্রযুক্তি। সেখানেই তৈরি করা হচ্ছে কম্পোস্ট সার। রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সার তৈরির জায়গায় দেওয়া হয়েছে টিনের চালা। সাধারণ কম্পোস্ট ছাড়াও কৃষকেরা তৈরি করছেন খামারজাত কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট ও কেঁচো কম্পোস্ট। প্বার্শবর্তী সবজি ক্ষেতে করছেন পরিচর্যা। কৃষক মাঠ স্কুলের শিক্ষার্থী শিবপুর গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই স্কুল তাঁর জীবনে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। আগে ৮০ শতক জমি চাষ করে তিন বেলার খাবার জুটত না। সেখানে এখন খাওয়া-পরা, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দেওয়ার পরও বছরে ৫০ হাজার টাকা আয় থাকছে।
ঝিকড়া গ্রামের কৃষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলে শিখে নিজের তৈরি সার দিয়ে আমরা ফসল ফলাই। রাসায়নিক সারের বদলে খেতে কেঁচো সার দিই। ক্ষেতে পাখি ডেকে আনাও যে কৃষিকাজের অংশ, কৃষক মাঠ স্কুলে না পড়লে আমরা কেউ জানতে পারতাম না। উপজেলার পরানপুর গ্রামের গৃহবধূ মাজেদা বেগম বলেন, ওই স্কুলে পারিবারিকভাবে খামার করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি, ছাগল, ভেড়া ও গবাদিপশু পালন সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আইপিএম কৃষক মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষক ও উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, এই স্কুলের মাধ্যমে বিভিন্ন চাষাবাদের মাঠ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এতে করে কৃষক উপকারি পোকা মাকড় ও ক্ষতিকারক পোকা মাকড় এবং কৃষির উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার বলেন, উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২৫০ জন কৃষককে স্কুলে শেখানো হয়েছে কৃষিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পন্থায় ধান-সবজিসহ সব ধরনের আবাদের কলাকৌশল। স্কুলে শেখানো কৃষিপ্রযুক্তির শিক্ষা মাঠে প্রয়োগ করে চারঘাটের অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।