তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরের সরনজাই ইউনিয়নের (ইউপি) সীমান্ত সংলগ্ন আলোকচ্ছত্র আন্ধারাইল বিলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পুকুর পুনঃখনন নিয়ে জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়রা জানান, কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করে বিলের মধ্য অযথা এই পুকুর পুনঃখনন সরকারী অর্থের অপচয় বই কিছু নয়। কারণ এই পুকুর পুনঃখনন করা হলে কৃষকের কোনো উপকার তো আসবেই না। বরং জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে প্রায় শত একর তিন ফসলী জমি অনাবাদি হবার পাশাপাশি, সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হবে।
জানা গেছে, রিশিকুল ইউপির ১২৪ নম্বর আলোকছত্র মৌজায় ৪১৬ নম্বর দাগে অবস্থিত গভীর নলকুপ স্কীমের মধ্য একটি খাস পুকুর রয়েছে। এদিকে শ্রেণী পুকুর হলেও পলী মাটি জমে ভরাট হয়ে তা কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। এলাকার কৃষকেরা দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সেটি কৃষি জমি হিসেবে ব্যবহার করছে। কৃষকদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সেটি সংস্কার করা হয়নি।স্থানীয় ইউপি সদস্য পুকুর খননের কাজ বন্ধের দাবি করেন।
সরেজমিন ২৭ জানুয়ারী বৃহস্প্রতিবার দেখা যায়, পুকুর পাড়ে বসে কৃষকেরা বিলাপ করছে।
গভীর নলকুপ স্কীমের কৃষক আজিজুল ইসলাম, আনসার আলী ও সাহিন মাস্টারসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এই পুকুর সংস্কার কাজের জন্য ঠিকাদারের লোকজন সেচ বন্ধ করে দেয়ায় পুকুর পাড়ের প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বোরো উৎপাদন হচ্ছে না, এসব জমিতে সেচ দিলে গভীর নলকুপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়া হয়েছে তায় সেচ বন্ধ। তারা বলেন, বিলের পানি প্রবাহের পথে পুকুর খনন করা হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির ফলে প্রায় শত একর ফসলী জমি অনাবাদী হয়ে পড়বে। যার প্রমাণ কৃষি জমি বাঁচাতে এর পাশেই বিলের খননকৃত পুকুর ফের ভরাট করা হচ্ছে।
এবিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম টুলু বলেন, তিনি কৃষকের মুখে শুনেছেন, পুকুর তো কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে, এটা পুনঃখননের কোনো মানেই হয় না। যেখানে প্রয়োজন সেখানে নাই, অপ্রয়োজনীয় জায়গায় পুকুর বন্ধ করে প্রয়োজনীয জায়গায় খননের দাবি করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিএ কাঁকনহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এখানে তার বলার কিছু নাই। এবিষয়ে ঠিকাদার গোলাপ বলেন, তারা সেচ বন্ধ করতে বলেননি। তিনি বলেন, তারা পুকুর পুনঃখননের কাজ নিয়েছেন, এর সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব তাদের নয়।