শামীম রেজা : চলতি বছর আলু চাষ করে বিপাকে পড়েছে কৃষক। আলু চাষ করে এখন তাদের উৎপাদন খরচই ওঠছে না। কৃষকরা এবার আলুর উচ্চ মূল্য আশায় ব্যাপক ভাবে আলু চাষে ঝুকে পড়ে। সবে আলু ওঠতে শুরু করায় কৃষকের সেই আশায় গুড়েবালি হতে চলেছে। বাগমারায় কমতে শুরু করেছে আলুর বাজার দর। কৃষকরা বলেছেন এই দামে আলু বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠবে না। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন খুব অল্প পরিমান জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। ব্যাপক ভাবে আলু উত্তোলন শুরু হলে আলুর দাম আরো কমে যাবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে গত বন্যায় আলুর দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ভালো দামের আশায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচহাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছে। উপজেলার মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক ওমর আলী জানান, আমি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি এতে খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। কাঠা প্রতি ৪ থেকে ৫ মণ হারে উৎপাদন হয়েছে।
বিঘা প্রতি ফলন ৮০ থেকে ১০০ মণ। বর্তমানে ভবানীগঞ্জ হাট সহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে এখানে দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪শ ৫০ টাকা থেকে ৫শ টাকা মন দরে এবং হার্ডিনাল ও বার্মা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা দরে। কিছুদিন আগেও এলাকার কৃষকরা অপরিপক্ক আলু তুলে তা ১২শ থেকে ১৫শ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিল। এতে তাদের ভালো লাভ হয়েছে। হামিরকুৎসার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ১০ কাঠা জমিতে আলু চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। একই ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বছর চড়া দাম দেখে এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। উচ্চমূল্যে কিনতে হয়েছে বীজ পাশাপাশি সার কীটনাশক সেচ শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছে।
বর্তমানে আলুর বাজার দর দেখে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এতে তার লোকসান গুনতে হবে। তবে আলুর বাজার দর আরো পড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারা সহ আশে পাশের এলাকায় এখনও পুরোদমে আলু ওঠা শুরু হয়নি। তার মতে এভাবে আলুর ব্যাপক দরপতনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ভালো দাম পাওয়ার জন্য তিনি কৃষকদের আলু সংরক্ষনের পরামর্শ দিয়েছেন।