সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বাড়ছে গম চাষ

Paris
Update : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

আর কে রতন : এক সময় রাজশাহী জেলার প্রায় সবক‘টি উপজেলা অধিক গম চাষ হলেও কালের পরিবর্তনে সেই গম চাষ থেকে চাষিরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প জমিতে বেশি ফলন ও অধিক মুনাফা পাওয়ার আশার এ ফসল থেকে কৃষকরা সরে আসে। কিন্তু গত তিন-চার বছর হতে আবারো গম চাষে আগ্রহী হতে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর চাষিদের। তার ফলস্বরুপ চলতি রবি মওসুমে রাজশাহী প্রায় ২৫ হাজার ৩৪৭ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, অতীতে রাজশাহীর গোদাগাড়ি, তানোর পবা, মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বেশি গম চাষ হত। বাকি উপজেলায় গম চাষ হলেও খুব বেশি নয়। কিন্তু দিনে দিনে এ অঞ্চলে গম চাষের জমি কমতে থাকে। এর মধ্যে গত কয়েক বছর হতে পুনরায় চাষিরা গম চাষে আবারো আগ্রহী হয়ে উঠছে। আর এভাবে এ এলাকার বিলুপ্তির পথের গমচাষ আবারো ক্ষেতের পর ক্ষেত বেড়েই চলেছে।

বাগমারার ফুলপুর গ্রামের কৃষক নারায়ন চন্দ্র সরকার জানান, পূর্বে ৮-১০ বিঘা জমিতে গমের ফসল চাষ করতেন। পরে গভীর নলকুপের আর্বিভাব ঘটতে ঐ জমিগুলোতে উচ্চমান ফলনশীল ধানের চাষ শুরু হলে গমের আবাদ ধীরে ধীরে কমে যায়। গত চার বছর আগে বাড়িতে খাওয়ার কারনে এক থেকে দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করতেন। বর্তমানে বাজারে গমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে চলতি মুওসুমে ৪-৫ বিঘা জমিতে গম চাষ করছি।

এখন একদিকে গমের বাজার মূল্য যেমন ভালো, অন্যদিকে তেমনি গম চাষে বাড়তি ঝামেলাও পোহাতে হয় না। অল্প খরচে গম চাষ করতে করে প্রতি বিঘা ভাল মুনাফা পাচ্ছি। শুধু মকবুল মোহনপুর উপজেলার খাৎতা গ্রামের মিঠু জানান, বর্তমানে প্রতি বিঘা বোরো ক্ষেতে শ্রমিকসহ যাবতীয় খরচের তুলনায় এক বিঘা গমের জমিতে অনেক কম খরচ এবং ভাল হচ্ছে।

গোদাগাড়ি উপজেলা আলোকছত্র গ্রামের আনসার আলী জানান, দেশি জাতের গম বিঘা প্রতি ৮-১০ মণ হারে হয়। কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল গম বিঘা প্রতি ১১-১৩ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। গত বছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে ১০-১১ মণ হলেও এবার উৎপাদন বাড়বে । বিশেষ করে এ গমে দুই থেকে তিনবার সেচ দিতে হয়। সার কীটনাশকেরও তেমন খরচ নেই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২৫৩৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি। জেলায় বারি-২৫, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৩ জাতের গম বেশি চাষ হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris