শাহানুর রহমান রানা : আর মাত্র একদিন পরেই জাতীয় বিজয় দিবসের ঘন্টা বাজবে। বিশেষ এই দিনটি সেই ১৯৭১ সাল থেকে এখন অবদি দেশের মানুষের কাছে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ দিন বা দিবস হিসেবে পরিচিত। যে যার স্থান ও সাধ্যমতো এই মহান দিনটিকে শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালবাসায় সিক্ত করে তোলেন। প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তিগত ভবনগুলোতেও শ্রদ্ধা আর সম্মানের সাথে উড়ানো হয় লাল সবুজের জাতীয় পতাকা। ছোট থেকে বড় সকলেই যেনো জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মেতে উঠে বিজয়ের উল্লাসে।
বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা আর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় যেনো আমাদেরকে লাল সবুজের পতাকার প্রতি আরো বেশি ভালবাসা জন্মাতে উৎসাহিত করে প্রতিটি মূহুর্তেই। মহান এই বিজয় দিবস অন্য যে কোন দিবসের চাইতে অতিমূল্যবান আমাদের সকলের কাছেই। যার কারণে যথাযথভাবে এই বিশেষ দিনটিকে আমরা সম্মান আর শ্রদ্ধার সাথেই পালন করে থাকি।
বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ী চব্বিশনগরের জাহাঙ্গীর, ফরিদপুর ভাঙ্গা থানা এলাকার সোলেমান, গোপালগঞ্জ এলাকার আক্কাস মাতাব্বর সহ আরো অনেকেই প্রতিবছরের ন্যায় রাজশাহী শহরে এসেছেন বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা বিক্রির উদ্দেশ্যে। শহরের বিভিন্ন মোড়, রাস্তা আর পাড়ামহল্লায় ঘুরে ঘুরে তার বিক্রি করছেন বিভিন্ন সাইজের লাল সবুজের জাতীয় পতাকা। হাতে নিয়ে বিজয় দিবস পালন করার জন্য ছোটদের জন্যও রয়েছে ছোট ছোট পতাকা। কপালে ও হাতের কব্জিতে পরেও বিজয় উল্লাসে মেতে উঠার জন্যও রয়েছে ব্যবস্থা।
এছাড়াও সকল মাপের জাতীয় পতাকাও তারা নগরীজুড়ে ঘুরেঘুরে বিক্রি করছেন। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে তিনশ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে জাতীয় পতাকাগুলো। কিন্তু, নগরীর বেশকিছু স্থান ও ভ্রাম্যমান বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে, পতাকা তৈরিতে রাষ্ট্রীয় আইনের যৎসামান্ন ব্যতয় ঘটিয়ে বানানো হয়েছে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা।
পতাকা বিধি (১৯৭২) মেনে জাতীয় পতাকা তৈরি ও উড্ডয়নের পরামর্শ দিলেন রাসিকের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বতন্ত্র, গর্ব আর অহঙ্কারের বিষয়। যেহেতু এটি আমাদের মর্যাদা ও স্বতন্ত্রতার বাহক সেহেতু এটি তৈরি আর ব্যবহারে যথাযথাভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও বিধির মান্যতা অত্যাবশ্যক।
তিনি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহীর সকল পেশাজীবি ও সকল শ্রেণীর মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় পতাকার সুনির্দিষ্ট মাপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা মাপের সুনির্দিষ্ট বিবরণ অনুযায়ী, ‘জাতীয় পতাকা গাঢ় সবুজ রঙের হবে এবং ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকিবে।
লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যরে এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট হবে। পতাকার দৈর্ঘ্যের নয়-বিংশতিতম অংশ হতে অঙ্কিত উলম্ব রেখা এবং পতাকার প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দু হতে অঙ্কিত আনুভূমিক রেখার পরস্পর ছেদ বিন্দুতে বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দু হবে।
অর্থাৎ পতাকার দৈর্ঘ্যের বিশ ভাগের বাম দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র। পতাকার সবুজ পটভূমি হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট গ্রীন এইচ-২ আর এস ৫০ পার্টস এবং লাল বৃত্তাকার অংশ হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ এইচ-২ আর এস ৬০ পার্টস । এছাড়াও জাতীয় পতাকা ব্যবহারের মাপ অনুযায়ী, ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার আলাদা আলাদা মাপও রয়েছে।
পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকার, নকশা, রঙ এবং পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে পতাকা বিধি (১৯৭২) নিয়ম অনুসরণ করে।