এফএনএস : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, একজন নোবেল প্রাইজের জন্য লবিং করছেন, কিন্তু খালেদা জিয়া লবিং করছে না। গণতন্ত্রের জন্য যদি নোবেল দেওয়া হয় তাহলে সেটা খালেদা জিয়ার কাছে যাবে। আমরা যদি তাকে বাঁচাতে নাও পারি তারপরও তার কাছে নোবেল আসবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দল এ সভার আয়োজন করে। গয়েশ্বর বলেন, আমাদের সবার লক্ষ্য এখন এবং অভিন্ন। তবে পথ আলাদা হতে পারে। আজকে আমাদের দেহ মন এনেসথেসিয়া দিয়ে অবশ করে রাখা হয়েছে। অনেকে বলেন আর কতো? আজকে সবাই মুক্তি চায়।
তারা খালেদাকে দ্বিধাহীনভাবে নেত্রীভাবে। তিনি জাতির একজন নেতা। তার প্রয়োজনীয়তা সবাই আমরা অনুভব করি। তিনি বলেন, আজকে দেশের ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা চায়। এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি ব্যক্তি তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। কারণ তারা জনগণের ভোট ও আদালতকে তোয়াক্কা করেন না। যা খুশি তাই করছেন। সেই ব্যক্তি হলেন শেখ হাসিনা। তার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো শক্তি আছে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার আসল রোগ কী? তবে শেখ হাসিনা জানে। কারণ তিনি খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ক্লোজড মনিটরিং করছেন।
এজন্য করছেন যে কখন দুর্ঘটনা ঘটবে আর তিনি সব বাধা পেরিয়ে যাবেন। তবে এটাও ভাবতে হবে যে একটা দুর্ঘটনা ঘটবে আর পরবর্তী আর দুর্ঘটনা ঘটবে না সেটা কিভাবে মোকাবিলা করবেন? এই দুর্ঘটনা ঘটার পর আমরাও জনরোষ এড়াতে পারব না। এটা যদি তিনি না ভাবেন তাহলে বাংলাদেশে কেয়ামত খুব কাছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, খালেদার পরিচিতি শুধু জিয়াউর রহমানের স্ত্রী নন, তিনি তার কর্ম দিয়ে দেশের জনগণের মাঝে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। আজকে আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এরপরই খালেদা জিয়া সেখানে থাকবেন। কারণ খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র সমার্থক। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ইস্যুতে দেশের মানুষ একমত।
আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন। যখন যেভাবে ডাক আসবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। খালেদা জিয়ার অপর নাম গণতন্ত্র। সরকারের কিন্তু বেশি সময় নেই। তারা জনগণের কাছে অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মুসলিম লীগের অ্যাডভোকেট জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, চাষী এনামুল হক, এনডিপির ক্বারী এম এ তাহের, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখ।