স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন বলেছেন, ‘নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের দক্ষতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করা যায় না।’ রোববার (৮ মার্চ) সকালে পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রতিটি আন্তর্জাতিক দিবসের পেছনে সংগ্রামের ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। তাই পরিবার থেকে শুরু করে সমাজকে নারীদের উন্নয়নের পথে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের ৩১ দফায় নারীদের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। অর্ধেক জনসংখ্যা নারী; তাই তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব।
বিএনপির অতীতের পদক্ষেপগুলো স্মরণ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিএনপি সরকার নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছিল এবং ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিল। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়াও বর্তমানে বিএনপি নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস এবং স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুমা মোস্তারী, শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ প্রমুখ। এরআগে, আলোচনা সভার আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারী নেত্রী, মহিলা সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।