এফএনএস : বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মারুফ কামাল খান সোহেল। গত মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক এই প্রেস সচিব ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন- উনার (খালেদা জিয়া) নিজের একটা দল আছে। কাগজে-কলমে এখনো সে দলের চেয়ারপারসন তিনি। শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ দলটিকে তিনি রক্ষা করেছিলেন, পুনর্জাগরিত করেছিলেন, অনেক কষ্টে ও ত্যাগে ক্ষমতায় এনেছিলেন।
এ দলের মাধ্যমে তিনি অনেককে নেতা, মন্ত্রী-এমপি এবং আরও অনেক কিছু বানিয়েছেন। তাদেরকে সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা এনে দিয়েছেন। আর্থিক-বৈষয়িক-ব্যবসায়িক সুফলও অনেকেই পেয়েছেন সেই ক্ষমতায়নে। দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে বেগম জিয়া কী কী করেছেন তা ইতিহাস বলবে। কিন্তু জীবনের এই জটিল সন্ধিক্ষণে, প্রয়োজনের মুহূর্তে তার নিজের দল এবং সে দলের কাণ্ডারিরা সাধারণ নাগরিকের মতো দোয়া মাহফিল করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারলো না। খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব আরও লেখেন, তার পরিবার বারবার মানবিক বিবেচনায় বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাইছে।
দল কেবল সে আবেদনেরই পুনরাবৃত্তি করছে। রাজপথে, সংসদে, আইনের আদালতে কোথাও নেই বেগম জিয়ার জন্য দলের উচ্চকিত কণ্ঠস্বর বা অর্থবহ তৎপরতা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু নেই। এটাই বোধ হয় খালেদা জিয়ার জীবনের সব চেয়ে বড় ট্রাজেডি হয়ে থাকবে। ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বেগম জিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছিলেন, আজ থেকে তিন যুগ আগে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাজনীতিতে আসি। সেই দিন থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দূরে ঠেলে মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলাম।
সেদিন আমি নিশ্চিত জীবন ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম। সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব লেখেন, খালেদা জিয়া নিশ্চিত-নিরাপদ জীবন ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে এসেছিলেন। আজ তিনি নিজেই ন্যায়বিচার ও নূন্যতম চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত। আজ তিনি জীবন-সংকটে। অথচ সবকিছুই যেন চলছে আগের মতোই। সব কিছুই মেনে নিতে প্রস্তুত হয়ে প্রতীক্ষায় বসে আছে যেন সবাই। এদিকে ১৩ নভেম্বর ফের রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।