মচমইল থেকে সংবাদদাতা : বছর খানেক আগেও সবার সাথে চলাফেরা করেছেন দীপক চন্দ্র (২৬)। দীপক চন্দ্র রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইল আদিবাসীপাড়ার গোপাল চন্দ্রের ছেলে। সে সবার সাথে পার করেছেন স্বাভাবিক জীবন। হঠাৎ করে দীপক চন্দ্র অন্যরকম আচরণ করতে থাকে। তার সাথে যোগ হয় অসংলগ্ন কথাবার্তা। এক সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দীপক চন্দ্র। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজনকে মারধর করাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকেন তিনি।
নিরুপায় হয়ে বাড়ির লোকজন প্রায় পাঁচ মাস ধরে শিকল ও রশি দিয়ে দীপকের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন। মচমইল বাজারের পাশে পরিত্যক্ত এক জমিদারবাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছে কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পরিবার। সেখানে দীপকের পরিবারও থাকে। সেখানেই তাকে শিকল আর রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা। আগের মতো তেমন ভালো করে কথাবার্তা বলছেন না দীপক। শিকল খোলার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়না।
দীপকের বাবা গোপাল চন্দ্র বলেন, তাঁরা গরিব মানুষ। এর মধ্যে তাঁর ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছেন। চিকিৎসার জন্য টাকা না থাকায় কবিরাজের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। দীপকের মা সন্ধ্যা রানী বলেন, আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ। আমাদের তো জমিজমা নেই যেটা বিক্রয় করে চিকিৎসা করাতাম। টাকার অভাবে ছেলের ভালো চিকিৎসা করাতে পারছিন না। ছেলে ভালো না হওয়ায় দেড় মাস আগে তাঁর পত্রবধূ শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। এদিকে কাজ না করলে খাবার জুটবে না।
তাঁদের কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয়। এ জন্য নিরুপায় হয়ে ছেলেকে বেঁধে রেখে যান। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক সমরেশ কুমার সরকার বলেন, দীপক ভালো থাকা অবস্থায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। হঠাৎ তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি দীপকের চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় ৯ নং শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রামানিক বলেন, দীপক হঠাৎ করেই মানষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দীপকের বিষয়টি শোনার পর তাঁর পরিবারকে সহায়তাও করা হয়েছে।