সর্বশেষ সংবাদ
‘রাজশাহীর আবাসন খাতে চরম বিপর্যয়’ মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের : প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামাদ, সম্পাদক আসাদ রাজশাহী কারাগারে বাবার কোলে ওঠার সুযোগ পেলো ফুটফুটে শিশু ইতিহাস গড়লো রুয়েটের ‘টিম বেঙ্গলসাব’ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে র‌্যালি, আলোচনাসভা রাজশাহী নগরীতে ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে পবায় প্রতিবন্ধী-দুঃস্থদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করলেন ডিসি রোববার থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে : হাইকমিশনার রাজশাহীর আমের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা, ব্যস্ত চাষি-ব্যবসায়ীরা

‘রাজশাহীর আবাসন খাতে চরম বিপর্যয়’

Paris
Update : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যমূলক করনীতি, ব্যাংক ঋণের আকাশছোঁয়া সুদের হার এবং নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজশাহীর সম্ভাবনাময় আবাসন খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অবিলম্বে এই নীতিমালার সংস্কার করা না হলে স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন এবং এর সাথে জড়িত ২৬৯টি সহযোগী শিল্পে ধস নামবে। শনিবার (২৭ জুন) নগরীর এক রেস্টুরেন্টে বেলা ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপার্স এ্যাসোসিয়েশন এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেডার সাধারণ সম্পাদক আ,স,ম মিজানুর রহমান কাজী বলেন, রাজশাহী মূলত একটি চাকুরিজীবী ও শিক্ষাকেন্দ্রিক শহর। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো এখানে বড় কোনো কর্পোরেট ক্রেতা নেই; এখানকার আবাসন বাজার সম্পূর্ণভাবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয় ও পেনশনের টাকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ২০২৩ সালের নতুন করনীতিতে যৌথ উন্নয়ন মডেলে জমির মালিকের ওপর ১৫% ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স আরোপ করার পর থেকে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এর ফলে রাজশাহীতে নতুন প্রকল্প শুরু করা এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। সাইনিং মানি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির প্রতিটি ধাপে এই ১৫% ট্যাক্স দেওয়ার কারণে আবাসন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। “রড-সিমেন্টের লাগামহীন দামের কারণে রাজশাহীতে বর্গফুট প্রতি উৎপাদন খরচ ২,০০০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ঋণের সুদ ১৬% ও রেজিস্ট্রেশন খরচ ১৩% হওয়ায় ফ্ল্যাট এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।”ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন শুল্ক ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে ক্রেতা নেই। ফ্ল্যাট বিক্রি না হওয়ায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দেশের জিডিপিতে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতটি ধসে পড়লে পোশাক খাতের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাতের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেকার হয়ে পড়বেন। এছাড়া চড়া করের কারণে ক্রেতারা নিবন্ধন না নেওয়ায় সরকার বার্ষিক ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব হারাচ্ছে। সংকট উত্তরণে সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে দুটি জরুরি দাবি জানানো হয়: প্রথমত, জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা; এবং দ্বিতীয়ত, মধ্যবিত্তের আবাসন স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে একক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদী বিশেষ গৃহঋণের ব্যবস্থা করা। সময়মতো নীতিগত সংস্কার না করা হলে এই স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. ইরশাদ আলী ইশা, সহ-সভাপতি মোঃ কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেজবাউল বারী, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক মোঃ উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, সমাজ কল্যান ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মাকসুদুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আখতারুল হুদা রুমেল, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বি.এম আকিবুর রহমান, সদস্য মোঃ শামীমুল ইসলাম মুন, সদস্য মোঃ আব্দুস সোবহান, সদস্য মোঃ তরিকুল ইসলাম, সদস্য ইঞ্জি. প্রশান্ত কুমার দেবনাথ, সদস্য মোঃ মহসিন আলী, সদস্য মোঃ ওয়াসিপ আলীসহ রেডার সদস্যবৃন্দ।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris