২৯ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২১, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আইন-আদালত
পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন, স্বামী গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকার বাসায় অবস্থানকালে প্রেমিক পারভেজ খুনের ঘটনায় স্বামী আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সাভারের জিরানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার সিআইডির অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিয়ের পর আমিনুল ইসলাম ও মমতাজ বেগম প্রায় ৮ বছর ধরে রংপুরের পীরগঞ্জ থানাধীন সোনাকান্দর এলাকার নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

তাদের একটি সাত বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী আমিনুল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অধীনে গাছ কাটা ও অটোরিকশা চালানোর কাজ করতেন। এর ফলে সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত তাকে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হতো। এই সুযোগে পীরগঞ্জ সরকারি হাইস্কুলের মার্কেটের ইলেকট্রনিক্স দোকানি আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে মমতাজ বেগমের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, এর ধারাবাহিকতায় গত ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে আনোয়ার পারভেজ দোকান বন্ধ করে আমিনুলের বাড়িতে যান।

এ সময় আমিনুল বাসায় ফিরলে তার স্ত্রীর সঙ্গে পারভেজকে দেখে রেগে যান এবং খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আনোয়ার পারভেজকে মাথায় আঘাত করেন আমিনুল। এতে গুরুতর আহত হন পারভেজ। পারভেজকে রক্ষার্থে আমিনুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন আমিনুল। আহতাবস্থায় আশপাশের লোকজন উভয়কেই প্রথমে পীরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে চিকিৎসক আনোয়ার পারভেজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পরের দিন ৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ার পারভেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সিআইডির এ কর্মকর্তা আরও জানান, ওই ঘটনায় নিহত আনোয়ার পারভেজের মা বাদী হয়ে আমিনুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পুলিশের একটি টিম সাভারের জিরানী এলাকা থেকে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হলে বিষয়টি সিআইডির নজরে আসে বলেও জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন