এফএনএস : বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের নাম সব সময় বিশ্বাসঘাতক ও খুনি হিসেবে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাটকো, বিদেশি চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটর, আকাশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত থাকবে। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম সব সময় জড়িত থাকবে।
জিয়াউর রহমান বিশ্বাসঘাতক ও খুনি হিসেবে পরিচিত থাকবে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জিয়ার নাম সব সময় জড়িত থাকবে। কারণ যে পরিমাণ বিশ্বাসঘাতকতা, যে পরিমাণ হঠকারিতা, যে পরিমাণ খুনের রাজনীতি জিয়াউর রহমান করেছেন-এটি বাদ দিয়ে তো বাংলাদেশের ইতিহাস হবে না। মির্জা ফখরুল সাহেব কথাটা সেভাবে বললে সঠিক হতো। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই প্রধান কাজ বলে ফখরুলের মন্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল, সেটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
’৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। যদি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে তখনকার আধা সামরিক সরকার, এরশাদ সরকারে পতন না হতো, খালেদা জিয়া ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। যদি সংসদে বিল পাস করা না হতো যে, রাষ্ট্রপতির শাসন থেকে সংসদীয় পদ্ধতির শাসনের বিল পাস না হতো। আওয়ামী লীগ সহযোগিতা করেছিল বিধায়, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সেটা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে যদি গণতন্ত্র হরণ করা হয়ে থাকে সেটা জিয়াউর রহমান করেছে। জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তীতে দেশে তিনি সামরিকতন্ত্র চালু করেছে। তারপর মার্শাল ডেমোক্রেসি চালু করেছিল। দেশে যদি গণতন্ত্র হরণ করে থাকে সেটি জিয়াউর রহমান করেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের দল করে তারা যখন এই কথা বলে তারা কীভাবে সংসদে আছেন। দেশের সংসদ কীভাবে আছে। গণতন্ত্র নাই গণতন্ত্র নাই সকাল বিকেল তিনবেলা কীভাবে বলে যদি গণতন্ত্র না থাকে। মির্জা ফখরুল যে উঁচু গলায় কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন, তাতেই প্রমাণিত হচ্ছে যে দেশে গণতন্ত্র আছে এবং বাক স্বাধীনতাও আছে। এদিকে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দেশে কোনো অবস্থায়ই ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল চলতে দেয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, দেশে যেসব বিদেশি চ্যানেল আছে আইন অনুযায়ী তারা ক্লিন ফিড চালাতে বাধ্য। কিন্তু তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এসব চ্যানেল ক্লিন ফিড করে পাঠাচ্ছে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দেশে কোনো অবস্থায়ই ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল চালাতে দিতে পারি না।
এরপর আইন প্রয়োগ করা হবে। আইন অনুযায়ী ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশে চ্যানেল আমাদের এখানে সম্প্রচার করতে পারে না। তিনি বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের ক্যাবল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ডিজিটালাইড করা হবে। সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাহকদের অবহিত করতে একটি পরিপত্র জারি করা হবে। ৩০ নভেম্বরের পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অ্যানালগ সিস্টেম আর কাজ করবে না। ডিজিটাল সেটআপ বক্সের মাধ্যমেই সম্প্রচার হবে। এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেডি, কিন্তু দর্শকদের যদি সেটআপ বক্স দেওয়া না হয় এবং তারা যদি না নেন তবে সেটা বাস্তবায়ন করা কঠিন। সেজন্য আমরা পরিপত্র জারি করবো।
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন শহর ছাড়াও কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজারকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড করতে হবে। পুরো দেশের বিষয়টি নভেম্বরে বসে কীভাবে করা যায় তা ঠিক করবো। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ যারা দিচ্ছে, সেসব সার্ভিস প্রোভাইডাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও স্ট্রিমিং করে টেলিভিশনে দেখাচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে আনঅথরাইজ অনেক চ্যানেল দেখানো হচ্ছে, এটা তারা কোনোভাবেই করতে পারে না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে আইপি টিভি দেখানো হচ্ছে। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, একজনের ডোমেইনের মধ্যে আরেকজন প্রবেশ করছে।
এটি নিয়ে আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়, টেলিকম বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করবো। ক্লিন ফিড চলছে কিনা সেটি নিয়ে আমরা সারাদেশে এনফোর্সমেন্টে যাবো। হাছান মাহমুদ বলেন, পরপর দুই বছর সনদ নবায়ন না করায় এক হাজার ২০০ ক্যাবল অপারেটিং ও ফিড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এক বছর নবায়ন না করলেই এসব সনদ বাতিল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা করিনি। যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদের কেউ কেউ এখনো কাজ করছেন।ক্যাবল অপারেটিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রায়ই এলাকা নিয়ে ঝামেলা হয়, অনেক সময় বড় ঝামেলা হয়, খুন-খারাপির মতো ঘটনাও বিভিন্ন সময় ঘটেছে।