গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ। মাটির সোঁদা গন্ধে কৃষককুলে উৎসবের আমেজ। জমিতে ধান রোপন করার মজাটাই আলাদা। যদি আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরে তাহলে তো কথাই নেই। শত পরিশ্রম হলেও জমি চাষ করে সেই জমিতে যখন ধান রোপন হয় তখন কৃষাণ কৃষাণীদের চোখে মুখে থাকে প্রাপ্তির ঝিলিক। বলছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে রোপা আমন চাষে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করার কথা। আষাঢ় মাসে চলছে জমিতে রোপা আমন চাষ। বৃষ্টি ভাল হওয়ায় এবার কৃষকদের ধান রোপনে তেমন সমস্যা হয়নি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে গোমস্তাপুরে ১৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে উফশী- ১২ হাজার ৫৭০ হেক্টর, হাইব্রিড-১০০ হেক্টর, স্থানীয় জাত-২ হাজার ৮৭০ হেক্টর। এবার বীজতলা অর্জন হয়েছে ১২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত আমন রোপন করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ হেক্টর। অবশিষ্ট জমিতে ধান রোপনের কাজ চলমান রয়েছে। এবার চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৯৮ মেট্রিকটন।
রহনপুর পৌর নূনগোলা এলাকার কৃষক বাবুল আকতার জানান, এবার আমি সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান রোপন করেছি। হাইব্রিড ও গুড়মতি এ দুই জাতের ধান চাষ করছি। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৭ বিঘার মধ্যে বেশিরভাগই ধান রোপন করা হয়ে গেছে। ভাগোলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, শুরুর দিকে বৃষ্টির পানিতে আবাদ হলেও মধ্যখানে খরা পড়ায় জমিতে গভীর নলকুপের পানি দিতে হয়েছে। আমার আট বিঘা জমিতে আমন জাতের ৫১ ধান রোপন করেছি।
আশাকরি ভাল ফলন পাবো ইনশাল্লাহ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার জানান, এবার রোপা আমন চাষ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের আমরা বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করার তেমন প্রয়োজন হয়নি। আর মাঠে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের কাটিং ও প্রদর্শনীতে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছি। আশা করছি গতবারের তুলনায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সাধারণত জুন-জুলাই থেকে রোপা আমনের রোপন শুরু হয়। এবারও আমন রোপন সঠিক সময়ে শুরু হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে কৃষকরা এবার বোরো ধানে ভালো দাম পেয়েছে। রোপা আমনেও আশা করা যায় কৃষকরা ভালো দাম পাবে। সরকারি ভাবে ভালো দাম দিয়ে ধান কিনবে বলে সরকারি নির্দেশনা আছে।