মঙ্গলবার

২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানের নওগাঁ এখন আমেরও জেলা

Paris
Update : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

সুমন আলী, নওগাঁ : ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ জেলা এখন আম উৎপাদনের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীকে পেছনে ফেলে আম উৎপাদনে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে নওগাঁ জেলা। গত বছরের মতো এ বছরও দেশে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হবে নওগাঁয়। এ বছর সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নওগাঁয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে-চলতি বছরে জেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । অপরদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আড়াই লাখ মেট্রিক টন। অন্য ফসলের চেয়ে আম চাষে লাভজনক হওয়ায় আগামীদিনে আরো বড় পরিসরে নওগাঁর কৃষক ও আমচাষিরা আমবাগান গড়ে তুলতে ঝুঁকে পড়েছেন। যে হারে নওগাঁয় দিনদিন আম চাষের আবাদ বাড়ছে, উৎপাদনের ধারা বৃদ্ধি রাখলে দেশের অর্থনীতিতে আম বিশেষ অবদান রাখবে। ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ জেলা।

এ জেলাতে আমন, বোরো ও আউশ ধান চাষ হয়ে থাকে। জেলায় প্রতি বছর ১৬ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। জেলার চাহিদা ৪ লাখ মেট্রিকটন চাল বাদে উদ্বৃত্ত বাকি চাল সারা দেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। ধানকে কেন্দ করেই জেলায় যেসব শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক। কৃষিই নওগাঁর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চাবিকাঠি। কাটারিভোগ, সুগন্ধি আতপ, জিরাশাইল চালসহ উন্নতমানের চালের জন্য এই জেলা বিশেষভাবে পরিচিত।

কিন্তু গত ১০ বছরে ধানের এই রাজ্যে ঘটেছে আমের বিপ্লব। মাটির বৈশিষ্ট্যগত কারণে নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আমের ভরা মৌসুমে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও পাইকারি বাজার গড়ে না তোলায় আমচাষিরা নায্য মূল্য পান না। জেলায় আগামীদিনে আরো অধিক আম উৎপাদন করার লক্ষ্যে আম গবেষণাকেন্দ্র, পাইকারি বাজার ও সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারন অধিপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন গত মওসুমে এ জেলায় মোট আমের বাগান ছিল ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। তিনি জানান-নওগাঁ জেলায় গুটি, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাতি, মোহনভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, বারি-৩, ৪ ও ১১, নাগফজলি, গৌড়মতি উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে। এসব আমের বিশেষ জাতের মধ্যে আম ‘নাগফজলি’। এই নাগফজলি বিশেষ করে পত্নীতলা, বদলগাছী, ধামইরহাট ও মহাদেবপুরে চাষ হয়ে থাকে।

এদিকে জেলায় ২০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম ভাঙ্গা শুরু হচ্ছে। এ দিন থেকে গুটি আম ভাঙ্গা শুরু হচ্ছে। এ ছাড়াও ২৫ মে থেকে গোপালভোগ ও রানিপছন্দ আম, ২রা জুন থেকে খিরসা পাত ও হিমসাগর আম, ৪ঠা জুন থেকে নাগফজলী আম, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া আম, ২০ জুন থেকে ফজলী আম, ২২ জুন থেকে আম্রপালী আম এবং ৮ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারী-৪ ও ঝিনুক জাতের আম ভাঙ্গা শুরু হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর রশিদ জানান, নওগাঁয় বেড়েই চলেছে আমের ফলন। এখন নওগাঁয় বেশি আম হচ্ছে আম্রপালি। বর্তমানে নওগাঁ থেকে সীমিত পরিমাণে আম বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। তা ছাড়া ২০২০ সাল থেকে বারি আম-৩ বা আম্রপালি বিখ্যাত কোম্পানি ওয়ালমার্টের চাহিদার তালিকায় রয়েছে। নওগাঁ থেকে আম আমদানিকারক দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন সব ব্যবস্থা ইতোমধ্য শেষ করেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris