শামীম রেজা, মচমইল : জ্যৈষ্ঠের মিষ্টি ফল লিচু। লিচু সবারই প্রিয় ফল। প্রিয় ফলের এমন বাম্পার ফলন দেখে অনেক খুশি বাগান মালিক সহ লিচু চাষিরা। পরিশ্রম ও বিনিয়োগ সফল হবে এমন ধারনায় তারা দিন রাত আগলে রেখেছেন শখের লিচু বাগান। উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এমন শখের লিচু বাগান গড়ে তুলেছেন প্রায় ২০/২৫ জন কৃষক। লিচুর পাশাপাশি তারা জমিতে ধানও উৎপাদন করছেন। সম্প্রতি বালিয়া গ্রামের ওই সব লিচুর বাগান দেখে মন জুড়িয়ে যায়। বাগানে সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে ধানের আবাদ।
বাগান মালিক কালাপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমান ও কাঁঠালবাড়ি গ্রামের আয়নাল হক জানান, এবার বাগান জুড়ে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ঠিক যথাসময়ে কীটনাশক প্রয়োগ করায় লিচুতে তেমন রোগবালাই ও পোকার আক্রমন হয়নি। তারা চায়না ও বোম্বাই জাতের লিচুর আবাদ করেছেন। বাগানের প্রায় প্রতিনিটি গাছের লিচুতে রং ধরেছে। সেই সাথে গাছ থেকে লিচু ভাংতেও শুরু করেছেন তারা। ভাল লাভের আশায় নিজেরাই লিচু সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন বাগান মালিকরা। মান ভেদে প্রতি একশটি লিচু গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তাদের বাগানে গড়ে প্রায় ৫০/৬০ টি করে লিচু গাছ রয়েছে। কিছু লিচু তারা বাইরের জেলায় রপ্তানীর জন্য রেখে দিয়েছেন। এতে আরো ভাল দাম পাবেন বলে তাদের প্রত্যাশা। লিচু বাগান নিয়ে প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জমান আসাদ। বালিয়া গ্রামে তারও লিচুর পাঁচটি বাগান রয়েছে। তার মতে লিচুর বাগান করে সবাই লাভের মুখ দেখতে পারে। একই বাগানে লিচুর পাশাপাশি ধানসহ অন্যান্য সবজির আবাদ অনায়াসে করা সম্ভব। \
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিবুর রহমান বলেন, এবার বিগত বছরের চেয়ে লিচুর ফলন অনেক ভাল। সময় মত পরিচর্যা আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর রং অনেক সুন্দর। ভাল রংয়ের লিচু চাহিদাও অনেক বেশি হয়ে থাকে। সেই সাথে লিচু বাগান মালিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ। লিচু চাষ অনেক লাভবান হওয়ায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।