সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, ক্ষতির মুখে কৃষক

Paris
Update : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমনে নষ্ট হচ্ছে শতশত বিঘার ধান। ক্ষেতে ক্ষেতে পাকার আগ মূহুর্তে ধানের শীষ মওে চিটা অবস্থা দেখা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই কাঁচা অবস্থায়ই ধান কাটছে। ওষুধ প্রয়োগেও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। আর্থিক ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় চলতি ২০২০-২০২১ এর খরিপ-১ এর আওতায় রবি মৌসূমে ১৯৮৭০ হেক্টর জমিতে বোরোর চাষাবাদ হয়েছে। ধান রোপনের পর থেকে সতেজ অবস্থায় ধান গাছ বৃদ্ধি পেয়ে শিষে রুপান্তর হবার পরই ক্ষেতে পোকার আক্রমন দেখা দেয়।

উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের যশোর বিল এবং খাঁপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতের এমন দশা দেখা গেছে। ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকরা জানান, ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট ছোট পোকা মৌমাছির চাকের মত এসে বসছে ক্ষেতে। যেখানে সকালে পোকার আক্রমন দেখা গেছে বিকেলের মধ্যেই ওই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধান গাছের ৪/৫ ইঞ্চি উপরে চুষে চুষে পোকার দল চলে যাবার ৮/১০ ঘন্টা পরেই ধীরে ধীরে ধানের শীষ মরে হেলে যাচ্ছে বলে কৃষকদের ভাষ্য।

অনেকেই বলছেন, ধানের শীষের নিচের ডগা ভেতর থেকেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এর ফলে শীষ সাদা চিটা হয়ে হেলে পড়ে যাচ্ছে। কোন দমন ব্যবস্থাপনাই কাজে আসছেনা। আলোক নগর নামোপাড়া গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান ওরফে আতর আলী বলেন, আমার প্রায় পনের কাঠা জমিতে পোকার আক্রমনে শীষ মরে গিয়ে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

একই গ্রামের বিদেশ ফেরত যুবক মাহাবুর রহমান জানান, আমার প্রায় এক বিঘা জমিতে পোকার আক্রমনে সব নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কারেন্ট পোকার আক্রমনে পুরো বিলে প্রায় শতশত বিঘা জমিতে ধানের শীষ সাদার মত হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষক সাজ্জাদ হোসেনের দশ কাঠা, আব্দুল হামিদের এক বিঘা, আমজাদ হোসেনের দশ কাঠা, আসাদুল ইসলামের দশ কাঠা, আলাউদ্দিনের আট কাঠা, সামছুল হক শাহ এর আট কাঠা, সাইদুর রহমানের পাঁচ কাঠাসহ অনেক কৃষকের ধানের শীষ সাদা হয়ে মরে হেলে পড়ে গেছে।

ধান পাকার আগ মূহুর্তে ক্ষেতের বেহাল দশা দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যশোর (বিলযশাই) বিলের চার পাশে অবস্থিত হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর, কালুপাড়া, রাঁয়াপুর, তালঘরিয়া, কোনাবাড়িয়া, দক্ষিন মাঝগ্রাম, যোগীপাড়া ইউনিয়নের ভটখালী ও মাড়িয়া ইউনিয়নের সাঁকোয়া এবং শীতলাই গ্রামের কৃষকরা আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এছাড়াও খাঁপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতে এ রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ওই গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন ও আশরাফ হোসেন জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই ধানের শীষ মরে সাদা হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, আবহাওয়া জনিত তাপমাত্রার কারনে ধান ক্ষেতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিছু আবার পোকার কারনেও এমনটা হচ্ছে। তবে কৃষকদের তাৎক্ষনিক খোঁজ খবর নিয়ে মাঠে গিয়ে ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে কেউ আসলেও আমরা কার্যকরী ওষুধ লিখে দিবো।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris