শুক্রবার

১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে আওয়ামীলীগের সংবর্ধনায় এমপিকে বাধা!

Paris
Update : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে দলীয় সংসদ সদস্যকে বাধা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন। তার উপস্থিতিতে স্থানীয় সাংসদ ডা. মনসুর রহমানকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়া হয়। এর পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। বিশিষ্টজনরা বলছেন আগামী ২৮ মার্চ দুর্গাপুর পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারনা চলাকালীন নির্বাচনী এলাকার মধ্যে দলীয় নেতাদের সংবর্ধনা দেয়ার নামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লংঘন।

এছাড়া করোনাকালীন এই সময়ে গণজমায়েতের উপর সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও মানা হয়নি তা। কারো মুখেই ছিলোনা মাস্ক। ছিলোনা সামাজিক দুরত্ব। এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাইলেও তাকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সাংসদ ডা. মনসুর রহমান সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে না উঠে নিচ থেকেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বাগমারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল ও দপ্তর সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার সহ জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকেই একাধিক মাইক ব্যবহার করে দুর্গাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল শোডাউন নিয়ে সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে আসতে থাকে। এক সময় পুরো রাস্তাজুড়ে যানজট দেখা দেয়। রাস্তা ফাঁকা করতে পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা অনুষ্ঠানে যোগদেন। সন্ধ্যার একটু আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এস এম কামাল আসেন। পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য বক্তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। তাদের এমন বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এ ধরনের সংবর্ধণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও তাকে আগে থেকে কেউ জানায়নি। এমনকি তাকে দাওয়াত দেয়াও হয়নি। এ কারণে তিনি ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে না চাইলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাকে নিজে থেকে ডেকে নিয়ে যান। তিনি বলেন, চারঘাটে নির্বাচনী প্রচারনা শেষে সন্ধ্যার একটু আগে এস এম কামাল দুর্গাপুরে পৌছালে তার সাথে ও তার ডাকে আমিও সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাই। কিন্তু মঞ্চে উঠার আগেই জেলা সাবেক সাংসদের ছেলে বদরুল ইসলাম তাপস সরাসরি আমার সামনে এসে আমাকে ঘিরে ধরেন এবং মঞ্চে উঠতে বাধা দেন। কেন্দ্রীয় নেতার সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কারনে আমি বিব্রত হই। পরে আমার নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে বিশৃংখলা এড়াতে আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি।

সাংসদ ডা. মনসুর রহমান অভিযোগ করেন, পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে সংবর্ধণা অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠতে দেয়া হয়নি। যিনি এ কাজটি করেছেন তিনি আমার ছেলের বয়সী। তাকে আমি অত্যন্ত স্নেহ করি। কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় নেতার সামনে যে ঘটনাটি ঘটালেন সে বিষয়ে আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি জানাবো। এ ব্যাপারে কথা বলা হলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ফলে নির্বাচনী আচরন বিধি লংঘন করা হয়েছে বলে স্বীকার করলেও কি ব্যবস্থা নিবেন তা বলেননি। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris