শনিবার

১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

আজ ফাল্গুন, আজ বসন্ত

Paris
Update : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আর কে রতন : আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার পহেলা ফাল্গুন। শীতের রিক্ততা মুছে প্রকৃতিজুড়ে সাজ সাজ রব এখন। বিবর্ণ প্রকৃতিতে জেগে উঠেছে নতুন জীবনের ঢেউ। নীল আকাশের সোনাঝরা আলোর মতোই আন্দোলিত হৃদয়। আহা! কী আনন্দ আকাশে বাতাসে। রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আহা, আজি এ বসন্তে/কত ফুল ফোটে, কত বাঁশি বাজে/কত পাখি গায়।’ বছর ঘুরে আবার এলো সেই ফুল ফোটার দিন।
বাংলাদেশ বা বাঙালি সমাজে ঋতুরাজ বসন্ত আসে নানা রঙ ছড়িয়ে। প্রকৃতি খুলে দেয় তার দক্ষিণ দুয়ার। বসন্তের আগমনে কোকিল গান গায়। ভ্রমর খেলা করে। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। প্রকৃতির এই রূপে দেওয়ানা হয়ে কবিরা রচনা করেছেন অনেক চরণ। ‘আজি এ বসন্ত দিনে বাসন্তী রঙ ছুঁয়েছে মনে; মনে পড়ে তোমাকে ক্ষণে ক্ষণে চুপি চুপি নিঃশব্দে সঙ্গোপনে’- এ রকম অনেক চরণ রচিত হয়েছে বসন্তকে নিয়ে।

তারপরও বাংলায় বসন্তের আগমন চিরায়িত। বসন্তকাল বাংলাদেশের প্রকৃতিতে রমণীয় শোভা বিস্তার করে আবির্ভূত হয়। এ ঋতুতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বড়ই চমৎকার হয়ে ওঠে। তরুলতাসমূহ নতুন পত্রপুষ্পে সুশোভিত হয়। ফাগুনের প্রথম দিনে পোশাক আর অনুষ্ঠানে রঙের প্রধান্য লক্ষণীয়। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী আর তরুণ-তরুণীদের মাঝে পহেলা বসন্ত এক অন্যরকম দিন। তরুণীদের পরনে শোভা পায় বাসস্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় গাদা ফুল। শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধদের বসনেও বসন্তের ছোঁয়া। কবির ভাষায় ‘ফাগুনের রঙে রেঙেছো তুমি, না বলা কথা আজ বলবো আমিঃ হৃদয়ের ডাক শুনবে কি তুমি?’ অথবা ‘ মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে।’

যান্ত্রিক যুগে প্রকৃতি যদি নাও বলে ‘বসন্ত এসেছে ধরায়’ তাতে কিছু যায়, আসে না। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের এই সাজগোজেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে জীবনে আসলো আরেকটি বসন্ত। কবির ভাষায় ‘বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে রাঙা হল ধূসর দিগন্ত।’ মোগল সম্রাট আকবর বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন। নতুন বছরকে ঘিরে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য উৎসবের ধরণ এ রকম ছিলনা। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়।

সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীরা নানা অনুষ্ঠানের আজ সারাদিন এ উৎসবকে আরো প্রাণবন্ধ কওে তুলবে। দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। প্রকৃতি তার রঙ বদলাবে। বিদায় নেবে বসন্ত। খুব দ্রুতই যেন চলে যায় এ রাজঋতুটি। গর্জে ওঠে প্রকৃতি, বর্ষে বারিধারা। তাই কবিরও আক্ষেপ- ‘কেন রে এতই যাবার ত্বরা-বসন্ত, তোর হয়েছে কি ভোর গানের ভরা।’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris